খরায় তুরস্কের মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ হারে বাড়ছে 'সিঙ্কহোল'

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:৩৭ পিএম

তুরস্কের মধ্যাঞ্চলের কোনিয়া প্রদেশে ভয়াবহ হারে বাড়ছে সিঙ্কহোল বা ভূমিধসজনিত বিশাল গর্তের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, দীর্ঘমেয়াদি খরা, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন এবং অপরিকল্পিত কৃষি ব্যবস্থার কারণে অঞ্চলটির মাটি ধসে পড়ছে, যা দেশটির খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

তুরস্কের ‘শস্যভান্ডার’ হিসেবে পরিচিত কোনিয়া অঞ্চলে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে গম, ভুট্টা, সুগার বিট ও অন্যান্য ফসল উৎপাদিত হয়। তবে ক্রমবর্ধমান পানির সংকট মোকাবিলায় বহু কৃষক বৈধ ও অবৈধ কূপ খনন করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছেন। ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে এবং মাটির নিচে তৈরি হচ্ছে ফাঁপা স্তর, যা একসময় ধসে সিঙ্কহোলে পরিণত হচ্ছে।

তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কোনিয়া অববাহিকায় এখন পর্যন্ত ৬৮৪টি সিঙ্কহোল শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু গর্তের ব্যাস ২২৮ মিটার এবং গভীরতা ১৭১ মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে।

স্থানীয় কৃষক মেহমেত আকিফ ইশিকলি জানান, প্রায় দুই দশক আগে তার জমিতে একটি বড় সিঙ্কহোল সৃষ্টি হয়। পরে আশপাশের অনেক কৃষিজমিতেও একই ধরনের গর্ত দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রথমবার ভূমিধসের সময় মাটির নিচ থেকে পানি ফুটে ওঠার মতো দৃশ্য দেখা গিয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনিয়া একটি বন্ধ অববাহিকা হওয়ায় এখানকার নদী ও ভূগর্ভস্থ পানি সমুদ্রে গিয়ে মিশে না। এই পানি অঞ্চলটির হ্রদ, জলাভূমি ও কৃষি ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত পানি উত্তোলনের কারণে সেই প্রাকৃতিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ছে।

বিশ্ব বন্যপ্রাণী তহবিল তুরস্কের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৪ সালে কোনিয়া অঞ্চলে থাকা প্রায় এক লাখ কূপের মধ্যে ৬৬ হাজারই ছিল অবৈধ। একই সময়ে অঞ্চলে প্রাপ্য পানির তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি পানি ব্যবহার করা হচ্ছিল।

কোনিয়া টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ফেতুল্লাহ আরিক বলেন, সিঙ্কহোলগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এখন পর্যন্ত প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও ভবিষ্যতে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেক কৃষক আতঙ্কে গর্তগুলো মাটি দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা করেন, যা আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

পরিবেশবিদদের মতে, বর্তমান সংকটের মূল কারণ শুধু জলবায়ু পরিবর্তন নয়; বরং মানুষের তৈরি ভুল কৃষিনীতি ও অনিয়ন্ত্রিত পানি ব্যবহারের ফলেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, কম পানি প্রয়োজন এমন ফসল চাষে উৎসাহ দেওয়া এবং পানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার আনা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী বছরগুলোতে কোনিয়া অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব শুধু স্থানীয় অর্থনীতিতেই নয়, তুরস্কের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও পড়বে। সূত্র: বিবিসি

AS
আরও পড়ুন