শিক্ষার্থীদের স্লোগান: এক দাবি পূরণ, রইল বাকি তিন 

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকেরা নাচ-গান ও স্লোগানের মাধ্যমে এ ঘটনাকে উদযাপন করছেন।

দ্য হিন্দু জানিয়েছে, পদত্যাগের ঘোষণার পর যন্তর মন্তরে মানুষের উপস্থিতিও বেড়েছে।

এক বিবৃতিতে ককরোচ জনতা পার্টি জানায়, তাদের চার দফা দাবির মধ্যে একটি পূরণ হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ বাকি তিন দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের উদযাপনের একটি ভিডিও প্রকাশ করে লিখেছে, ‘গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।’

পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় অভিজিৎ দীপকে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রমাণ করেছে, ভয় না পেয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ালে যে কাউকে জবাবদিহির মুখোমুখি করা সম্ভব। গণতন্ত্রে ভয়ের কোনো জায়গা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তিনি ককরোচ জনতা পার্টি, দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া নাগরিকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, জবাবদিহি নিশ্চিত করার লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করা হয়েছে। এখন শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়।

কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেনুগোপালও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ভারতের তরুণদের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তিনি বলেন, তরুণদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক দাবির মুখেই শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। তবে আন্দোলনের বাকি দাবিগুলোও বাস্তবায়ন করতে হবে।

ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শরদ পাওয়ার বলেন, যন্তর মন্তরে টানা ২৮ দিনের আন্দোলন দেশের তরুণদের দৃঢ়তার প্রতীক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান সরকারকে নৈতিক দায় স্বীকারে বাধ্য করেছে।

অন্যদিকে আম আদমি পার্টি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি শিক্ষার্থী আন্দোলন দমনের চেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

দলের জ্যেষ্ঠ নেতা গোপাল রাই দাবি করেন, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিহার ও গুজরাটে গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রনেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার একদিকে আলোচনার কথা বললেও অন্যদিকে পুলিশি পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্দোলন দমন করতে চাইছে। এভাবে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করলে তা আরও বিস্তৃত হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। 

AS
আরও পড়ুন