কীভাবে বদলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধকৌশল?

রণকৌশল বদলে আক্রমণাত্মক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের যুদ্ধাবস্থা এখন এক অভূতপূর্ব এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক ধাপে প্রবেশ করেছে। সংঘাতের ভৌগোলিক সীমানা দ্রুত বিস্তার লাভ করায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল জুড়ে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের মানবিক ও সামরিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা।

মার্কিন বাহিনী তাদের পূর্বের উপকূলীয় সীমাবদ্ধতা ভেঙে এখন ইরানের মূল ভূখণ্ডের বেশ গভীরে হামলা চালানো শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় যুক্ত হয়েছে ইরানের যোগাযোগ ব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং বিভিন্ন কৌশলগত সামরিক স্থাপনা।

এমনকি পারস্য উপসাগরে অবস্থিত নির্দিষ্ট কিছু ইরানি দ্বীপে মার্কিন স্থল অভিযানের পরিকল্পনার গুঞ্জন সংবাদমাধ্যমে জোরালো হচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এমন আগ্রাসী পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনা বহুগুণ বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের জবাবে ইরানও তাদের আক্রমণের পরিধি ও কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক ও কাতারের পাশাপাশি তেহরান এখন জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে নজরদারি ও হামলা বাড়িয়েছে।

সংঘাতের এই নতুন পর্বে সিরিয়ায় অবস্থিত মার্কিন অবস্থানগুলোতেও সম্প্রতি সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরানি সামরিক গোষ্ঠীগুলো। বিশ্লেষকদের ধারণা, ইসরাইলে ভবিষ্যতে আরও বড় ও নিখুঁত হামলা চালানোর পরীক্ষামূলক মঞ্চ হিসেবে জর্ডানকে ব্যবহার করছে ইরান।

একই সাথে, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে গড়ে ওঠা বিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর আস্তানায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তীব্র করেছে তেহরান। শত্রুর গুপ্তঘাতকদের নির্মূল করতে চালানো বিশেষ কমান্ডো অভিযানের মাত্রা পূর্বের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কুয়েত এবং বাহরাইনের ঘাঁটিগুলো। তেহরানের দাবি, নিজদের মূল ভূখণ্ডে মার্কিন হামলার পেছনে কুয়েতের লজিস্টিক সহায়তার বড় ভূমিকা রয়েছে।

কাতার বা সৌদি আরব নিজেদের মাটি ব্যবহারে কিছুটা কড়াকড়ি করলেও কুয়েত ও বাহরাইন পূর্ণ সুবিধা দিচ্ছে। ফলে যে রাষ্ট্রই মার্কিন বাহিনীকে ভূমি ব্যবহার করতে দেবে, তারা ইরানের সরাসরি নিশানায় পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

ইরানের নতুন যুদ্ধকৌশল কেবল শত্রু অস্ত্র ধ্বংস নয়, বরং প্রতিপক্ষের কমান্ড সেন্টারগুলো গুড়িয়ে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলোও ভয়াবহ ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে।

রেড সি এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ জোরদার করেছে ইয়ামেনভিত্তিক আনসারুল্লাহ (হাউসি) বিদ্রোহীরা। তারা সৌদি আরবে হামলার প্রস্তুতির পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুরোপুরি অবরুদ্ধ করার ছক কষছে।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন তাদের আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের বড় অংশ ইসরাইলে পাঠিয়ে অঞ্চলটিকে অস্ত্রের মূল কেন্দ্রে পরিণত করেছে। যেভাবে ইসরাইলের অস্ত্রভাণ্ডার সাজানো হচ্ছে, তাতে দেশটি সরাসরি এই সংঘাতের ফ্রন্টলাইনে যুক্ত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার।

সার্বিক সামরিক রূপরেখা ও ভৌগোলিক বিস্তৃতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মুখোমুখি। কোনো পক্ষ ছাড় না দিলে বর্তমান সংকট খুব দ্রুতই এক অনিয়ন্ত্রিত ও রক্তক্ষয়ী পরিণতি নিয়ে আসবে।

সংবাদ তথ্যসূত্র (Source): ওয়ানা (WANA - West Asia News Agency)