বার্নহাম কি পারবেন পূর্ণ মেয়াদ থাকতে?

৪ বছরে ৫ প্রধানমন্ত্রী পেলো যুক্তরাজ্য

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬ এএম

কিয়ার স্টারমারের আকস্মিক পদত্যাগের পর যুক্তরাজ্যের ৫৯তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন লেবার পার্টির প্রবীণ নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম। 

সোমবার (২০ জুলাই) বাকিংহাম প্যালেসে রাজা ৩য় চার্লসের সাথে সাক্ষাৎ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের অনুমোদন পান গ্রেটার ম্যানচেস্টারের এই সাবেক জনপ্রিয় মেয়র।

দায়িত্ব নিয়েই বার্নহাম দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। 

তবে তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে তিনি তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কি না, তা নিয়েই এখন আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে।

ব্রেক্সিট-পরবর্তী অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও রেকর্ড মূল্যস্ফীতির কারণে গত চার বছরে যুক্তরাজ্য পাঁচজন প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানিয়েছে। 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পিবিএস নিউজের তথ্যমতে, গত এক দশকে বার্নহাম দেশটির সপ্তম প্রধানমন্ত্রী, যা ব্রিটিশ রাজনীতির নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে স্পষ্ট করে তোলে।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের (সিএফআর) বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও আঞ্চলিক উন্নয়নে বার্নহামের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। 

তবে ব্রিটেনের পার্লামেন্টারি ব্যবস্থার জটিলতার কারণে দলীয় এমপিদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং নিজস্ব মন্ত্রিসভাকে সামলানোই হবে তার টিকে থাকার প্রধান চাবিকাঠি।

বৈশ্বিক রাজনীতির ক্ষেত্রে বার্নহামের অভিজ্ঞতা তুলনামূলক কম বলে মন্তব্য করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। 

সংস্থাটি জানায়, মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রক্ষা এবং চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটে ব্রিটেনের আগের অবস্থান ধরে রাখা তার জন্য এক পাহাড়সম পরীক্ষা।

অন্যদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, লেবার পার্টির ৪০১ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৭৯ জনের বিপুল সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন বার্নহাম। 

'কিং অব দ্য নর্থ' খ্যাত এই রাজনীতিক দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক রূপরেখা ঠিক রাখতে পারলে পূর্ণ মেয়াদ শেষ করা কঠিন হবে না।

বার্নহাম এমন এক সময়ে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের হাল ধরেছেন যখন ঘন ঘন সরকার পরিবর্তনে দেশটির সাধারণ জনগণ চরম ক্লান্ত। 

বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা সামলে যদি তিনি আগামী তিন বছর স্থায়িত্ব দেখাতে পারেন, তবেই ব্রিটেনের রাজনীতিতে মিউজিক্যাল চেয়ারের দীর্ঘ নাটকের অবসান ঘটবে।

সংবাদ সূত্র: পিবিএস নিউজ (PBS News), ওয়াশিংটন পোস্ট (The Washington Post), দ্য হিন্দু (The Hindu), এবং কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস (CFR)।

HN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত