বন্যার ভিডিও সরিয়ে ফেলছে চীন, কারণ কী

নেপাল ও তিব্বত সীমান্তের জিরোং বন্দরে আকস্মিক বন্যার তাণ্ডব এবং মানুষের প্রাণভয়ে ছুটে পালানোর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। তবে বেইজিংয়ের কঠোর সেন্সরশিপের কারণে চীনের ভেতরে এই ভিডিও এবং বন্যার আসল চিত্র দেখারই সুযোগ নেই। শত শত মানুষের প্রাণহানি ও নিখোঁজের খবরের জায়গায় দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেবল উদ্ধার তৎপরতা এবং রাজনৈতিক বার্তা প্রচারে জোর দিচ্ছে।

হিমালয় অঞ্চলে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জরুরি বৈঠক করেছেন এবং উদ্ধার কাজে শত শত কর্মী পাঠিয়েছেন। চীন সরকারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা লি ছিয়াংও দুর্গত এলাকায় পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু চীনের শক্তিশালী 'ফায়ারওয়াল'-এর কারণে দেশটির সোশ্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেট থেকে বন্যার বাস্তব ছবি বা উদ্ধার পাওয়া মানুষের কোনো গল্প দেখা যাচ্ছে না। নিখোঁজদের স্বজনরা কী অবস্থায় আছেন, তাও জানার উপায় নেই।

ঐতিহাসিকভাবে তিব্বতের ভূখণ্ড ও সংস্কৃতিতে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই চীন সরকার যেকোনো খবর প্রচারে অতিরিক্ত সতর্ক থাকে। বেইজিংয়ের মূল লক্ষ্য সামাজিক 'স্থিতিশীলতা' রক্ষা করা। তাদের ভয়, এই বিপর্যয়ের অব্যবস্থাপনা বা পূর্বাভাসে গাফিলতি নিয়ে তিব্বতিদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, স্থানীয় তিব্বতিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য বা ভিডিও পোস্ট করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং পোস্টগুলো দ্রুত মুছে ফেলা হচ্ছে। সরকারের এই তথ্যের গোপনীয়তার নীতি এবং কঠোর নজরদারির কারণে তিব্বতের ভেতরে আসল ক্ষয়ক্ষতি ও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা কতটা, তা বিশ্ববাসীর কাছে অনেকটাই অজানাই থেকে যাচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি