হিমবাহ ধসের সময় পাহাড়ের ঢালে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসস্তূপ জমে একটি প্রাকৃতিক বাঁধের সৃষ্টি হয়েছিল। গত দুই দিনে সেই বাঁধের পেছনে জমে থাকা পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে। নতুন করে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নিখোঁজদের উদ্ধারে চলমান অভিযান স্থগিত করেছে নেপাল ও চীনের কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার থেকেই বাঁধটি ধসে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। শুক্রবার নেপাল পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, তিব্বতের অংশে পানি আটকে রাখা আরেকটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার তথ্য তারা পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকর্মীদের উঁচু ও অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষও একই ধরনের তথ্য জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, তিব্বত-নেপাল সীমান্তে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার পর যে হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি এখন উপচে পড়তে শুরু করেছে। এর ফলে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়েছে।
গত বুধবার আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় কয়েকশ মানুষ প্রাণ হারান। বন্যার স্রোতে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও বিধ্বস্ত হয়েছে। এখনও প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যেই নতুন করে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ওই এলাকায় আবারও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে তিব্বতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বৈঠকের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দুর্গত এলাকাগুলোর আশপাশে হিমবাহ, হিমবাহ থেকে সৃষ্ট হ্রদ এবং বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও অনেক অদৃশ্য ঝুঁকি রয়ে গেছে।
এসব সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
ডিবির পৃথক অভিযানে বাবা-ছেলেসহ গ্রেপ্তার ৩
খেলার মাঝেই ইমরান খানের দুই ছেলের রাজনৈতিক সাক্ষাৎকার প্রচার