মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ চললে ‘অনন্ত যুদ্ধে’ জড়াবে যুক্তরাষ্ট্র: কংগ্রেসম্যান

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি ‘অনন্ত যুদ্ধে’ জড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রো খন্না। তাঁর মতে, যুদ্ধের কারণে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন জনগণের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের চাপ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় খন্না বলেন, আগামী নভেম্বরে ভোটাররা ভোট দেওয়ার আগেই এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে খাদ্যপণ্যের দাম বেশি এবং গ্যাসের দামও বেশি। ফলে মার্কিন জনগণ চায়, নভেম্বরের নির্বাচনের আগেই যুদ্ধের অবসান হোক।

খন্নার আশঙ্কা, সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, যুদ্ধ বন্ধের রাজনৈতিক চাপ ততই কমে যেতে পারে। এ কারণেই তিনি দুই দলের আইনপ্রণেতাদের নিয়ে একটি ‘অপ্রচলিত জোট’ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন বলে জানান।

এই উদ্যোগে সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসির সঙ্গেও কাজ করার কথা উল্লেখ করেন খন্না। এর আগে খন্না ও ম্যাসি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্বিদলীয় ‘War Powers Resolution’ উদ্যোগেও একসঙ্গে কাজ করেছেন।

ট্রাম্পের ভোটারদের উদ্দেশে খন্নার আহ্বান

ভিডিও বার্তায় খন্না সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদেরও তাঁর সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা ‘America First’ নীতিতে বিশ্বাস করেন এবং নতুন কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতিতে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন, তাদের উচিত যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়া।

খন্না বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পথে এগোনো এবং কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। তা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।

তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি পরিস্থিতি এড়াতে হবে, যেখানে বর্তমান সংঘাত শেষ না হয়ে আরও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়।

নির্বাচনের আগে যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক চাপ

ইরান যুদ্ধ এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ সহযোগী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সংঘাতকে আরও বড় আকারে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে চান। তাদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে উচ্চ জ্বালানি মূল্য ও যুদ্ধক্লান্তি রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি জরিপে মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক যুদ্ধের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপও তৈরি হয়েছে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে বর্ণনা করতে অনাগ্রহী। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি এটিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ না করে ‘সামরিক সংঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও সংঘাতকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ হয়নি।

সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ইরান সংঘাত, জ্বালানির মূল্য, মূল্যস্ফীতি এবং যুদ্ধের ব্যয়—সবকিছুই নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে খন্নার বক্তব্য শুধু যুদ্ধবিরতির আহ্বান নয়; বরং ইরান সংঘাতকে ঘিরে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপেরও প্রতিফলন। তাঁর আশঙ্কা, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না হলে যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্য আরও বাড়তে পারে এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘস্থায়ী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে আটকে দিতে পারে।