ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ‘স্মল পটেটোস’ বা ‘তেমন বড় কিছু নয়’ বলে মন্তব্য করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প ইরান সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে একে ‘সামরিক সংঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি ‘স্মল পটেটোস’—অর্থাৎ বড় কোনো বিষয় নয়। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
শুমার লিখেছেন, ‘আমরা যে ১৮ জন সেনাকে হারিয়েছি, তাদের পরিবারকে এটা বলুন। শত শত আহত সেনাসদস্যকে বলুন। আর প্রতিদিন রেকর্ড উচ্চ দামের কারণে যে আমেরিকানরা ভুগছেন, তাদেরও বলুন।’
এরপর তিনি যোগ করেন, ‘এতে ছোট কিছুই নেই।’
ট্রাম্পের বক্তব্যের সময় পর্যন্ত ইরান সংঘাতে অন্তত ১৮ মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং শত শত আহত হয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাতটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ও তৈরি করেছে।
ট্রাম্প অবশ্য ইরান সংঘাতের ব্যাপকতাকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দিয়ে দেখানোর পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিপুল মার্কিন প্রাণহানির সঙ্গে বর্তমান সংঘাতের তুলনা করে বলেন, ইরানে এখন পর্যন্ত ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। তাঁর মতে, আগের বড় যুদ্ধগুলোর তুলনায় এই সংখ্যা অনেক কম।
একই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক অভিযান সফল হয়েছে। তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।
তবে শুমারের বক্তব্যে শুধু সেনাদের প্রাণহানিই নয়, সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবও গুরুত্ব পেয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে এসেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে চলমান সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত না করার প্রবণতা এরই মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেছিলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক পরিস্থিতিকে ‘যুদ্ধ’ বলবেন না। তিনি সংঘাতের অবসানের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাও দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
এদিকে এই সংঘাতের রাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়ছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে ইরান সংঘাতে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি, যুদ্ধের ব্যয় এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি—সবকিছুই ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ট্রাম্প যেখানে সংঘাতের সামরিক গুরুত্বকে তুলনামূলকভাবে সীমিত হিসেবে তুলে ধরছেন, শুমার সেখানে নিহত ও আহত মার্কিন সেনা এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগকে সামনে এনে বলছেন—এই সংঘাতে ক্ষতির মাত্রাকে কোনোভাবেই ‘ছোট’ করে দেখার সুযোগ নেই।
‘মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা ঘটে’, ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা নিয়ে ভ্যান্স
তুরস্ক নয়, নিষেধাজ্ঞা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত