যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির সমালোচনা করতে গিয়ে মুম্বাইয়ে কড়া ভাষায় পরোক্ষ খোঁচা দিয়েছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার। তবে বক্তব্যে তিনি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি। তাঁর মন্তব্যের পর উপস্থিত ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের করতালিতে হাস্যরসে পরিণত হয় পুরো মুহূর্তটি।
শুক্রবার মুম্বাইয়ে ভারত-বেলজিয়াম উচ্চপর্যায়ের সংলাপে ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডি ওয়েভার বলেন, বিশ্বে এখন এমন অনেক কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে, যারা বাণিজ্যিক বাধা বাড়ানো, বাজার বন্ধ করে দেওয়া এবং শুল্ক আরোপের পক্ষে কথা বলছে।
তিনি বলেন, কিছু দেশ এসব সিদ্ধান্ত ‘সম্পূর্ণ খামখেয়ালিভাবে’ নেয়। তারা সোমবার একটি সিদ্ধান্ত নেয়, বুধবার তা প্রত্যাহার করে এবং শনিবার আবার সেটি চালু করে।
এ সময় উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে করতালি শুরু হলে ডি ওয়েভার রসিকতা করে বলেন, “আপনাদের করতালি বলছে, আমি কার কথা বলছি, তা আপনারা জানেন।” এরপর তিনি বলেন, তিনি ওই ব্যক্তির নাম বলবেন না।
যদিও তিনি সরাসরি ট্রাম্পের নাম নেননি, তাঁর মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পরিবর্তনশীল শুল্ক ও বাণিজ্যনীতির প্রতি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপ ও নীতিতে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেই তাঁর এই বক্তব্য আসে।
ডি ওয়েভার শুধু শুল্কনীতির সমালোচনা করেই থামেননি। তিনি অর্থনৈতিক সুরক্ষাবাদ ও অন্য দেশের বাজারকে কাঠামোগতভাবে বিকৃত করার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন।
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু দেশ পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধভাবে বাজারকে বিকৃত করে এবং এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক অংশীদারদের অর্থনীতিতে গুরুতর ক্ষতি করে। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের নীতি অন্য দেশকে নির্ভরশীল করে তোলার চেষ্টা করে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সুরক্ষাবাদ ও অন্যায্য প্রতিযোগিতা বিশ্ব অর্থনীতি এবং ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ তৈরি করছে।
ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রশংসা
বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির গুরুত্ব। তিনি বলেন, এই চুক্তি দুই অর্থনীতিকে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বাণিজ্যিক চাপ ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বাধার বিরুদ্ধে আরও স্থিতিস্থাপক করে তুলবে।
ডি ওয়েভার চুক্তিটিকে দুই পক্ষের জন্য ‘উইন-উইন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, ভারত ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হলে উভয় পক্ষই বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে।
তিনি জানান, বেলজিয়ামের বন্দর, টার্মিনাল, লজিস্টিকস, রাসায়নিক ও জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর একটি বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফর করবে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ করাই হবে ওই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
মুম্বাইয়ের অনুষ্ঠানে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশও উপস্থিত ছিলেন। একই সফরে ডি ওয়েভার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাঁকে বিশ্বের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ী নেতা হিসেবে প্রশংসা করেন।
বিশ্ব বাণিজ্যে যখন শুল্ক, সুরক্ষাবাদ ও অর্থনৈতিক চাপ নতুন করে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে, তখন মুম্বাইয়ের এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। নাম না বলেও ট্রাম্পের নীতির প্রতি ইঙ্গিত এবং তার পর উপস্থিত শ্রোতাদের করতালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতির পরিবর্তন নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগেরই একটি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চলতি বছরেই জার্মানিতে ১৬০ নাশকতা
যে কারণে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে সোনা সরাচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলো
মালয়েশিয়ার সারাওয়াকে ভয়াবহ বায়ুদূষণ, জরুরি অবস্থা জারি