আগ্নেয় ছাইয়ে ঢাকা জাকার্তার আকাশ, ব্যাহত ৩০১ ফ্লাইট

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার কাছে আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরি থেকে ছড়িয়ে পড়া আগ্নেয় ছাইয়ের কারণে দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে শত শত যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েন এবং ব্যাহত হয় ৩০১টি ফ্লাইট।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত জাকার্তার বাইরে অবস্থিত সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। আগ্নেয়গিরি থেকে ১৫০ কিলোমিটারের বেশি দূরে হলেও ছাইয়ের বিস্তারে বিমানবন্দরটির কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আংকাসা পুরা জানিয়েছে, ব্যাহত হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে ৫৮টি আন্তর্জাতিক।

পরিস্থিতির কারণে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসও দিনের বাকি সময়ের জন্য জাকার্তাগামী এবং জাকার্তা থেকে ছেড়ে যাওয়ার সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।

বিমান চলাচলের জন্য আগ্নেয় ছাই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি উড়োজাহাজের জেট ইঞ্জিনে ক্ষতি করতে পারে এবং পাইলটদের দৃষ্টিসীমা মারাত্মকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। এ কারণে দেশটির আরও কয়েকটি বিমানবন্দরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানান, সোকার্নো-হাত্তা ছাড়াও আরও পাঁচটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বান্দুংয়ের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা এবং বান্দার লাম্পুংয়ের কাছে রাদিন ইনতেন-২ বিমানবন্দর রয়েছে। পাশাপাশি সেমারাং ও সুরাবায়াসহ কয়েকটি শহরের বিমানবন্দরকে বিকল্প অবতরণস্থল হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আগ্নেয় ছাইয়ের প্রভাবে জনজীবনেও বিঘ্ন ঘটেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ছাইয়ের কারণে চোখ ও শ্বাসতন্ত্রে অস্বস্তি দেখা দেওয়ায় কয়েকটি স্কুলের কার্যক্রম বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার গভীর রাতে আনাক ক্রাকাতাউয়ে নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজে জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের সময় সৃষ্ট বিকট শব্দ আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা গেছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জাভা দ্বীপের দিকে ছাই প্রায় ৬ হাজার মিটার উচ্চতায় উঠেছে। আর সুমাত্রা ও জাভার বানতেন প্রদেশের কিছু এলাকায় ছাইয়ের স্তম্ভ ১৫ হাজার মিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। রোববার আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনাও রেকর্ড করা হয়েছে।

তবে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, এ অগ্ন্যুৎপাত থেকে তাৎক্ষণিক সুনামির আশঙ্কা নেই। ছাই দ্রুত সরিয়ে নিতে কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত ঘটানোর ব্যবস্থাও নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিএনপিবির প্রধান সুহারইয়ান্তো বলেন, পর্যাপ্ত ভারী বৃষ্টি হলে আগ্নেয় ছাই দ্রুত ধুয়ে যাবে এবং জনজীবনে সৃষ্ট দুর্ভোগও কমে আসবে।

আনাক ক্রাকাতাউয়ের উৎপত্তি ১৯২০-এর দশকে সমুদ্রের মধ্যে। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতাউ অগ্ন্যুৎপাতের পর তৈরি বিশাল ক্যালডেরার ভেতর থেকেই আগ্নেয়গিরিটির জন্ম। ওই অগ্ন্যুৎপাত নথিভুক্ত ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী আগ্নেয়গিরির ঘটনা হিসেবে পরিচিত।

পরবর্তী সময়ে আনাক ক্রাকাতাউয়ে একাধিকবার অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। ২০১৮ সালের অগ্ন্যুৎপাতে আগ্নেয়গিরিটির একটি অংশ ধসে পড়ে। এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে জাভা ও সুমাত্রার উপকূলে ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

সূত্র: আলজাজিরা