ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে নিহত ৩, নিখোঁজ ২০ পর্বতারোহী

আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

ইন্দোনেশিয়ার হালমাহেরা দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট ডুকোনো (Mount Dukono) আগ্নেয়গিরির এক ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন পর্বতারোহী নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই অভিযান চালাচ্ছে দেশটির উদ্ধারকারী দল।

শুক্রবার (৮ মে) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে ডুকোনো আগ্নেয়গিরিতে শক্তিশালী এই বিস্ফোরণ শুরু হয়। দেশটির আগ্নেয়গিরিবিদ্যা ও ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি প্রশমন কেন্দ্র জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে প্রায় ১০ কিলোমিটার উঁচু ছাইয়ের স্তম্ভ আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মাইলের পর মাইল এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেছে।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, মাউন্ট ডুকোনো দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির থাকায় গত ১৭ এপ্রিল থেকে সেখানে পর্বতারোহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে একদল পর্বতারোহী সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চূড়ায় ওঠার চেষ্টা করেন এবং অগ্ন্যুৎপাতের মুখে আটকা পড়েন।

উত্তর হালমাহেরা পুলিশের প্রধান এরলিখসন পাসারিবু জানিয়েছেন, নিহত তিনজনের মধ্যে দুজন বিদেশি নাগরিক। এছাড়া নিখোঁজ ২০ জনের মধ্যে ৯ জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় উদ্ধার সংস্থা। উদ্ধার সংস্থার প্রধান ইওয়ান রামদানি জানান, নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকজনের জীবিত থাকার সংকেত পাওয়া গেছে, তাদের দ্রুত সরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

অগ্ন্যুৎপাতের পর ছাই বৃষ্টি ও লাভা প্রবাহের আশঙ্কায় নিকটস্থ টোবেলো শহরের বাসিন্দা ও পর্যটকদের আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে অন্তত চার কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই এ ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। দেশটিতে প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এর মধ্যে মাউন্ট ডুকোনো অন্যতম সক্রিয়; কেবল গত মার্চ মাস থেকেই সেখানে প্রায় ২০০ বার ছোট-বড় অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে।

FJ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত