ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে নিখোঁজ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

ইন্দোনেশিয়ার হালমাহেরা দ্বীপে অবস্থিত মাউন্ট ডুকোনো আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে নিখোঁজ থাকা দুই সিঙ্গাপুর নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

রোববার (১০ মে) স্থানীয় উদ্ধারকারী সংস্থা বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কয়েক দিন ধরে চলা রুদ্ধশ্বাস অনুসন্ধান শেষে আগ্নেয়গিরির ক্রেটার বা জ্বালামুখের কিনারার কাছ থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার সংস্থার প্রধান ইওয়ান রামদানি জানান, মরদেহ দুটি শনাক্ত করা সম্ভব হলেও ক্রমাগত অগ্ন্যুৎপাত ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সেগুলো সমতলে সরিয়ে আনার কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আগ্নেয়গিরি থেকে এখনো উত্তপ্ত ছাই ও পাথর বের হচ্ছে, সাথে বৃষ্টি যোগ হওয়ায় এলাকাটি অত্যন্ত পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। ফলে উদ্ধারকর্মীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।’

রোববার সকাল থেকে প্রায় ১৫০ জন দক্ষ উদ্ধারকর্মী এবং দুটি উন্নত প্রযুক্তির থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করে তল্লাশি চালানো হয়। নিখোঁজদের সর্বশেষ অবস্থানের প্রায় ১ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দূরে তাদের নিথর দেহ খুঁজে পাওয়া যায়। এর আগে উদ্ধারকারীরা পাহাড়ের ঢাল থেকে তাদের ব্যবহৃত ব্যাকপ্যাক উদ্ধার করেছিলেন।

গত শুক্রবার (৮ মে) উত্তর মালুকু প্রদেশের মাউন্ট ডুকোনো হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে পাহাড়ের জ্বালামুখ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত কালো ধোঁয়া ও আগ্নেয় ছাই ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় পাহাড়টিতে মোট ২০ জন আরোহী ছিলেন। এদের মধ্যে ১০ জন ইন্দোনেশীয় এবং ৯ জন সিঙ্গাপুরের নাগরিক। অগ্ন্যুৎপাতের শুরুতে ১৭ জন কোনোমতে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও, শনিবার একজন ইন্দোনেশীয় পর্বতারোহীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছিল। আজ দুই সিঙ্গাপুরির মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩ জনে।

সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাণে বেঁচে যাওয়া ৭ জন সিঙ্গাপুরি আজই দেশে ফিরছেন। তবে নিহত দুইজনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে মাউন্ট ডুকোনোর জন্য ‘তৃতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা’ বা লেভেল-৩ অ্যালার্ট জারি রাখা হয়েছে। আগ্নেয়গিরির মূল কেন্দ্র থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সকল প্রকার মানুষের যাতায়াত ও কার্যক্রম কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

FJ
আরও পড়ুন