বিশ্বের অন্যতম সস্তা জ্বালানির দেশ ইরান তাদের আমদানিকৃত পেট্রোলের ওপর থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তুকি তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আধা-সরকারি সংস্থা তাসনিম নিউজকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ।
আরেফ উল্লেখ করেন, এই নতুন মূল্যকাঠামোটি মূলত দেশের মোট অভ্যন্তরীণ পেট্রোল ব্যবহারের মাত্র ১৫ শতাংশের ওপর প্রভাব ফেলবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে গণপরিবহন খাতে ভর্তুকিমূল্যে আগের মতোই জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে।
পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরোনো গাড়ি বদলে হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক যানবাহন চালু করার বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। তীব্র জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে ও পরিবেশ রক্ষায় সরকার এই টেকসই পদক্ষেপ নিয়েছে।
বর্তমানে প্রাথমিক কোটার অধীনে ইরানি চালকেরা প্রতি মাসে ১৫ হাজার রিয়ালে (প্রায় ১ ইউএস সেন্ট) ৬০ লিটার পেট্রোল পান। এছাড়া লিটারপ্রতি ৩০ হাজার রিয়ালে (প্রায় ২ সেন্ট) আরও ৫০ লিটার অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয়ের সুযোগ রয়েছে।
সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মহাজেরানি জানান, প্রাথমিক ১১০ লিটারের কোটা অপরিবর্তিত থাকবে। তবে এই নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে লিটারপ্রতি দাম ৫০ হাজার রিয়াল থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ রিয়াল (প্রায় ৭ সেন্ট) করা হচ্ছে।
প্রচুর খনিজ তেল থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত শোধনক্ষমতার অভাব ও বিপুল অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে ইরান সংকট পোহাচ্ছিল। ঘাটতি পূরণে বাধ্য হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত খরচে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছিল তেহরানকে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি