বিদেশিদের থাইল্যান্ডেই মরতে হবে কেনো: থাই প্রধানমন্ত্রী

থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত কবরস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা বিদেশিদের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে তিনি বলেন, বিদেশিদের থাইল্যান্ডেই মরতে হবে কেন? নিজ দেশে গিয়ে মরুন। বিদেশিরা যদি থাইল্যান্ডে এসে বসবাস ও জীবিকা নির্বাহ করেন, তাহলে আইন মেনে চলতে হবে; মৃত্যুর পর মরদেহ যার যার নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়াই উচিত।

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে আনুতিন বিদেশিদের জন্য উপাসনালয় ও ব্যক্তিগত কবরস্থান প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, উপাসনালয় প্রতিষ্ঠা এমন কোনো বিষয় নয় যা কেউ নিজের ইচ্ছায় করতে পারে। এ ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

এরপর ব্যক্তিগত কবরস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি এমন একটি কবরস্থান প্রতিষ্ঠার আবেদন করার কথা তিনি জানতে পেরেছেন। তার মতে, বিষয়টি সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। থাইল্যান্ডে আসার অনুমতি দেওয়াই যথেষ্ট উল্লেখ করে তিনি বিদেশিদের আইন মেনে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহের আহ্বান জানান।

আনুতিনের এই বক্তব্যের কয়েক দিন আগে দেশটির চাচোয়েংসাও প্রদেশে একটি ইহুদি কবরস্থান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছিল। বুধবার থাই কর্তৃপক্ষ ওই স্থান থেকে চারটি মরদেহ সরিয়ে নেয়। এর মধ্যে তিনজন ইসরায়েলি ও একজন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন। পরে মরদেহগুলো চোনবুরি প্রদেশের একটি অনুমোদিত কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।

ওই কবরস্থানটি ২০২১ সালে অনুমোদন পেয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে এর অনুমতির মেয়াদ নবায়ন করা হয়নি। চারজনের মধ্যে একজনের দাফন অনুমোদন কার্যকর থাকা অবস্থায় হলেও বাকি তিনজনের দাফন অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে বৃহস্পতিবারের (১৭ সেপ্টেম্বর) বক্তব্যে আনুতিন সরাসরি ইসরায়েলি নাগরিক বা ইহুদি কবরস্থানের কথা উল্লেখ করেননি। বরং তিনি বিদেশিদের বেআইনি কর্মকাণ্ড, অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা, স্থানীয় নাগরিকদের ব্যবহার করে ব্যবসা চালানো এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেন।

থাই প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপ কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে নেওয়া হচ্ছে না। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেই এ ধরনের ঘটনা পাওয়া গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বৈধভাবে থাইল্যান্ডে প্রবেশ করে সৎভাবে জীবিকা নির্বাহ এবং দেশটির আইন ও সংস্কৃতিকে সম্মান করা বিদেশিদের স্বাগত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ডে বিদেশিদের কর্মকাণ্ড, বিশেষ করে ইসরায়েলি নাগরিকদের আচরণ নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা বেড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পর্যটন এলাকায় অনুপযুক্ত আচরণ, অনুমতি ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা, স্থানীয় নাগরিকদের নামে ব্যবসা চালানো, আইন লঙ্ঘন করে জমি ব্যবহার এবং স্থানীয় রীতিনীতি ভঙ্গের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত নিডা পোলের এক জরিপে ছয়টি প্রদেশের ৭৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, থাইল্যান্ডে ইসরায়েলিদের অনুপযুক্ত বা বেআইনি আচরণের অভিযোগ সম্পর্কে তারা সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনেছেন। বিপরীতে মাত্র ৫ দশমিক ১১ শতাংশ বলেছেন, তারা নিজেরা এমন কোনো ঘটনার অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। ৮ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর ব্যাংককসহ ছয় প্রদেশের ১ হাজার ৪১০ জনের ওপর জরিপটি পরিচালিত হয়; ফলে এটি পুরো থাইল্যান্ডের জনমতের প্রতিনিধিত্ব করে না। সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট