ইরানকে তথ্যযুদ্ধও করতে হচ্ছে: জেইনিভান্দ

বিশ্বের সব গণমাধ্যম কিংবা এমনকি ইরানের অভ্যন্তরের সব সংবাদমাধ্যমকেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও রাজনৈতিক উপমন্ত্রী আলী জেইনিভান্দ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) তিনি বলেন, বিদেশি ও অনলাইন গণমাধ্যমের তথ্যপ্রবাহ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে ইরানের উচিত নিজেদের বক্তব্য ও তথ্য আরও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। তার ভাষায়- শত্রুপক্ষের ‘মনস্তাত্ত্বিক অভিযান’ মোকাবিলায় নিজস্ব বয়ান শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

জেইনিভান্দ বলেন, ‘আপনি বিশ্বের সব গণমাধ্যমকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না, এমনকি ইরানের সব গণমাধ্যমকেও নয়।’ তার মতে, তথ্যপ্রবাহ বন্ধ করার পরিবর্তে সরকারের ব্যাখ্যা, অবস্থান ও তথ্য ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য একটি সমন্বিত প্রচারাভিযান প্রয়োজন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত সরকারি তথ্য তুলে ধরার ওপর জোর দেন তিনি।

যুদ্ধের মধ্যে তথ্যযুদ্ধ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ও জনমত গঠনের বিষয়টি তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানি কর্মকর্তারা সামরিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অবস্থা, জ্বালানি সরবরাহ এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত সরকারি বক্তব্য দিচ্ছেন। জেইনিভান্দ এর আগেও অর্থনৈতিক অবরোধের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিক্রিয়ার কথা বলেছেন এবং দাবি করেছেন, দেশের স্থল ও সমুদ্রসীমাকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে, যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ইরান সরকার জনসমর্থন ধরে রাখতে বিভিন্ন গণসমাবেশ ও প্রচারণার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে। ১৮ সেপ্টেম্বর তেহরানে সরকার-সমর্থিত একটি বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সরকারি হিসাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেয়।

বিদেশি সংবাদমাধ্যম নিয়েও বিতর্ক
ইরানে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাংবাদিক গ্রেপ্তার, সংবাদমাধ্যমের ওপর বিধিনিষেধ এবং ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। তবে জেইনিভান্দের সর্বশেষ বক্তব্যের তাৎপর্য হলো- সরকার নিজেই স্বীকার করছে যে তথ্যপ্রবাহ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। ফলে সরাসরি সংবাদ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিজেদের বক্তব্যকে আরও দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়াকে তারা কার্যকর কৌশল হিসেবে দেখছে।

ইরানি কর্মকর্তার এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি আলোচনা ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাও চলছে। ইরান জানিয়েছে, পাকিস্তান ও কাতারের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট মার্কিন বার্তা নিয়ে তেহরানে কোনো নিশ্চিত তথ্য পৌঁছেছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়নি।

ফলে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি তথ্য ও বয়ান নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতাও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। জেইনিভান্দের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তেহরান এখন শুধু তথ্য আটকে রাখার পরিবর্তে নিজেদের বক্তব্যকে আরও শক্তিশালীভাবে প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিতে চাইছে।