নিরাপত্তা দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী

আল-আকসায় শত শত ইসরায়েলির প্রবেশ

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে শত শত ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী প্রবেশ করেছেন বলে জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেটের মিডিয়া অফিস। তাদের প্রবেশের সময় ইসরায়েলি বাহিনী নিরাপত্তা দিয়েছে বলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে ৫৭০ জন বসতিস্থাপনকারী আল-আকসার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন এবং সেখানে ইহুদি ধর্মীয় রীতি পালন করেন বলে জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে। আনাদোলুর পৃথক প্রতিবেদনে অবশ্য প্রায় ১০০ জনের প্রবেশের কথা বলা হয়েছে। ফলে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে।

জেরুজালেম গভর্নরেটের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সুরক্ষায় বসতিস্থাপনকারীরা মসজিদ প্রাঙ্গণের বিভিন্ন অংশে প্রবেশ করেন। সেখানে তালমুদিক ধর্মীয় আচার পালন করা হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে। ওয়াফা জানিয়েছে, ইহুদি ধর্মীয় উৎসব ইয়োম কিপ্পুরকে সামনে রেখে আল-আকসা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ইয়োম কিপ্পুরের আগে উত্তেজনা
ঘটনাটি ঘটলো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, কয়েকজন মন্ত্রী এবং বিপুলসংখ্যক ইসরায়েলি নাগরিকের আগের দিন অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ওয়েস্টার্ন ওয়াল প্লাজায় যাওয়ার পর। জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছে, ওয়েস্টার্ন ওয়ালে যাওয়ার আগে ওল্ড সিটির বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার পালনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। ইহুদি ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবস ইয়োম কিপ্পুর রোববার সন্ধ্যায় শুরু হয়ে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। এ সময়কে কেন্দ্র করে আল-আকসা প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের প্রবেশের আহ্বান জানিয়েছিল কিছু ইসরায়েলি টেম্পল-সংক্রান্ত সংগঠন।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব প্রবেশের মাধ্যমে আল-আকসার দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সংগঠনগুলো আল-আকসা/টেম্পল মাউন্ট এলাকায় ইহুদিদের প্রবেশ ও ধর্মীয় আচারের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয়।

ছুটির সময়ে বাড়ছে প্রবেশ
আল-আকসায় ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের প্রবেশ সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। ১৩ সেপ্টেম্বর ইহুদি নববর্ষের দ্বিতীয় দিনে ৫৯৩ জন বসতিস্থাপনকারী আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছিলেন বলে জেরুজালেম গভর্নরেট জানিয়েছিল। একই সময়ে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগও ওঠে।

ইসরায়েলি সংগঠন Beyadenu-এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৬৮ হাজার ৯৪৪ জন ইসরায়েলি আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন, যা তাদের হিসাব অনুযায়ী ১৯৬৭ সালের পর একটি বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যা। তবে এটি একটি ইসরায়েলি সংগঠনের হিসাব; এর সংজ্ঞা ও গণনাপদ্ধতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থান এবং একই এলাকাটি ইহুদি ধর্মে টেম্পল মাউন্ট হিসেবে পরিচিত। স্থানটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মর্যাদা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ফলে ইহুদি ধর্মীয় উৎসবের সময় সেখানে প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার ঘিরে যেকোনো পরিবর্তন আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করে।

সর্বশেষ ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি ও সুরক্ষায় বসতিস্থাপনকারীদের প্রবেশের বিষয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ নির্দিষ্ট ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

জেএম
আরও পড়ুন