ইরানের মহাকাশ সংস্থার প্রধান হাসান সালারিয়েহ

৩০টির বেশি কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করছে ইরান

ইরানের মহাকাশ কর্মসূচি থেমে নেই। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে মহাকাশশিল্পের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠনের প্রস্তুতির পাশাপাশি ৩০টিরও বেশি কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। আগামী কয়েক মাসে এ খাতে নতুন মাইলফলক অর্জনেরও প্রত্যাশা করছে তেহরান। ইরানের মহাকাশ সংস্থার প্রধান হাসান সালারিয়েহ এ তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) উত্তর-পূর্ব ইরানের নিশাপুর শহরে এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় সালারিয়েহ বলেন, ইরানের মহাকাশশিল্প সম্পূর্ণ দেশীয় সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল। জাতীয় প্রযুক্তি ও সামর্থ্য কাজে লাগিয়েই এ খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।

‘রমজান যুদ্ধের’ সময় ইরানের মহাকাশশিল্পের কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে সালারিয়েহ বলেন, শিগগিরই সেগুলোর পুনর্গঠন শুরু হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি ভবন নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন নন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, কোনো দেশের সক্ষমতা যখন গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হয়, তখন অন্যরা সেটিকে হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করে। তবে এ বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

ইরানের মহাকাশ কর্মসূচির অগ্রগতি তুলে ধরে সালারিয়েহ গত দুই বছরের বিভিন্ন অর্জনের কথাও উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশে রকেট উৎক্ষেপণ, সিমোর্গ উপগ্রহের স্থিতিশীলতা অর্জন এবং কক্ষপথে নাহিদ-২ উপগ্রহের কার্যক্রম। এ ছাড়া তিনটি দূর অনুধাবন উপগ্রহ উৎক্ষেপণের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

সালারিয়েহ জানান, পায়া, জাফর ও কাউসার নামের দূর অনুধাবন উপগ্রহগুলোর উৎক্ষেপণ এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের প্রথম উৎক্ষেপণ কার্যক্রম। তার মতে, এসব উদ্যোগ ইরানের মহাকাশশিল্পের দ্রুত অগ্রগতি এবং প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার পরিচয় বহন করে।

ইরানের মহাকাশ সংস্থার প্রধান আরও বলেন, আগামী মাসগুলোতে এ খাতে নতুন নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে মহাকাশ প্রযুক্তিতে আরও অগ্রগতি অর্জন এবং নতুন মাইলফলক স্থাপনের প্রত্যাশা করছে দেশটি। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি