যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে: গালিবাফ

ইরানের দাবি মেনে নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে এবং ছাড় দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তিনি বলেছেন, সামরিক পদক্ষেপ ও আলোচনা, দুটিই প্রতিপক্ষকে নিবৃত্ত করার কৌশলগত হাতিয়ার। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়ে যেতে হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সম্প্রচারিত এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে গালিবাফ ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো লিখিত নথিতে প্রতিশ্রুতি দিলেই যে ইরানের ওপর আবার হামলা চালাবে না, তার নিশ্চয়তা নেই। তাঁর মতে, কেবল চুক্তি স্বাক্ষর করলেই যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ আগ্রাসন ঠেকানো সম্ভব হবে না।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কিংবা উত্তেজনা বাড়ানোও এককভাবে প্রতিপক্ষকে নতুন হুমকি দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না। এ কারণে ইরানের কৌশলে সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রাখতে হবে। তাঁর ভাষায়, এই দুইয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমেই স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

ইরাকের সঙ্গে ইরানের আট বছরব্যাপী যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে গালিবাফ বলেন, ওই সংঘাতে বিপুল ব্যয় ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হলেও ইরান এমন একটি অবস্থান তৈরি করতে পেরেছিল, যার ফলে পরবর্তী কয়েক দশক দেশটির বিরুদ্ধে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে হিসাব করতে হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও জাতীয় সক্ষমতার বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গালিবাফের মতে, সামরিক শক্তিই প্রতিরোধক্ষমতার একমাত্র ভিত্তি নয়। দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিস্থাপকতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক সক্ষমতার দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরানের গোলাবর্ষণ ক্ষমতা, আক্রমণাত্মক সামর্থ্য ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। তাঁর দাবি, ১২ দিনের যুদ্ধ থেকে শুরু করে সর্বশেষ সংঘাত পর্যন্ত এসব সক্ষমতা আরও বেড়েছে।

এ ছাড়া আঞ্চলিক প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কৌশলগত অবস্থান, জাতীয় ঐক্য এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ মোকাবিলার সামর্থ্যকে প্রতিরোধব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

গালিবাফ বলেন, ইরানকে এমন শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে হবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র কিংবা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অন্য কোনো পক্ষ সামরিক হামলা চালিয়ে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে না পারে। প্রয়োজন হলে পূর্ণ শক্তি দিয়ে আত্মরক্ষার প্রস্তুতি রাখতে হবে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে সামরিক অর্জন সংহত করা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাও জরুরি।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের বক্তব্য, সামরিক সাফল্যকে রাজনৈতিক ও আইনি অর্জনে রূপ দিতে হবে। অন্যদিকে, আলোচনার মাধ্যমে এমন সময় ও সুযোগ তৈরি করতে হবে, যা ইরানকে নিজের সক্ষমতা আরও বাড়াতে সহায়তা করবে। অর্থাৎ, সামরিক পদক্ষেপের লক্ষ্য কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন নয়; সেই সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সুবিধায় পরিণত করাও এর উদ্দেশ্য।

গালিবাফ জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ ও আলোচনাকে পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়ার অর্থ অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া কিংবা স্থায়ীভাবে আলোচনায় বসে থাকা নয়। বরং লক্ষ্য হলো, ইরানের দাবিগুলো মেনে নিতে প্রতিপক্ষকে বাধ্য করা। যুক্তরাষ্ট্র তা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে পরাজয় স্বীকার করতে হবে এবং এমন ছাড় দিতে হবে, যা ইরানের প্রতিরোধক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করবে।

সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে গালিবাফ জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে জনগণের ওপর চলমান অর্থনৈতিক চাপ কমাতে দেশের বিদ্যমান সম্পদ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, বর্তমান দুর্ভোগকে কাটিয়ে আরও আশাব্যঞ্জক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার সব দিককে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে হবে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি