‘যুদ্ধ ও কূটনীতি’ দুই পথেই লক্ষ্য অর্জন করতে চায় ইরান: গালিবাফ

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

শুধু দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ কিংবা শত্রুপক্ষের সঙ্গে বিরামহীন আলোচনা কোনোটিই ইরানের লক্ষ্য নয়। বরং সামরিক শক্তি ও কূটনীতি একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে নিজেদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে চায় তেহরান। এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে দেওয়া বক্তব্যে গালিবাফ বলেন, প্রয়োজন হলে ইরান সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবে, সামরিক প্রস্তুতি বাড়াবে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যকে রাজনৈতিক অর্জনে রূপান্তর করবে। একই সঙ্গে স্থায়ী প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে আলোচনাও চালিয়ে যাবে দেশটি। ইরানের সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।

গালিবাফ বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তার ভাষ্য, সামরিক বিজয়কে রাজনৈতিক সাফল্যে রূপান্তর করা এবং সেই সাফল্য সুসংহত করাই ইরানের কৌশলের অংশ।

যুদ্ধ, আলোচনা ও প্রতিরোধের নতুন সমীকরণ

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বলেন, প্রচলিত যুদ্ধ, আলোচনা ও শান্তির ধারাবাহিকতার পরিবর্তে তেহরান নতুন একটি সমীকরণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে যুদ্ধ ও আলোচনার পাশাপাশি থাকবে প্রতিরোধক্ষমতা। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে তা ভবিষ্যতে ইরানের ওপর আবারও হামলা ঠেকাতে পারবে কি-না, সে প্রশ্নও তোলেন গালিবাফ। তার মতে, শুধু লিখিত প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ আচরণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

গালিবাফ ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈরিতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ পরিবর্তন এবং ইরানের জনগণের বৈধ দাবিগুলো মেনে নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। তার দাবি, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক তৈরির সময় ইরান সেটিকে দুই পর্যায়ে সাজিয়েছিল, কারণ ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি রক্ষা নিয়ে তেহরানের আস্থা ছিল না। গালিবাফের ভাষ্য, যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের কৌশলগত সুবিধাই যুক্তরাষ্ট্রকে ওই সমঝোতা মেনে নিতে বাধ্য করেছিল। তবে সমঝোতার শর্ত, বাস্তবায়নের অগ্রগতি কিংবা দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্যের বিস্তারিত বিষয়ে তার বক্তব্যে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি

গালিবাফ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার দুই পর্যায়ের মধ্যবর্তী সময়ে ইরান নিজেদের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা, অগ্নিশক্তি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করেছে। তিনি মার্কিন ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতি এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসংক্রান্ত ঘটনাকে ইরানের সামরিক সক্ষমতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তবে এসব ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং ইরানের দাবির স্বাধীন যাচাই সম্পর্কে বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য দেননি। ইরানের প্রতিরোধক্ষমতার অন্যান্য উপাদান হিসেবে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহনশীলতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

ইরাকের সঙ্গে আট বছরের যুদ্ধের প্রসঙ্গ

ইরানের ওপর ইরাকের সাবেক শাসক সাদ্দাম হোসেনের আমলে চাপিয়ে দেওয়া আট বছরের যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন গালিবাফ। তার মতে, ওই যুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে সামরিক আগ্রাসন ঠেকাতে প্রতিরোধক্ষমতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, প্রতিরোধের অর্থ হলো- কোনো দেশ যেন ইরানে হামলার সাহস না পায়। কেউ এমন পদক্ষেপের কথা ভাবলে ইরানের ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা উচিত। গালিবাফের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তেহরান সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনীতিকে পরস্পরের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং একই কৌশলের দুটি অংশ হিসেবে দেখছে। তবে এই কৌশল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমাতে পারবে, না-কি সংঘাত দীর্ঘায়িত করবে, তা নির্ভর করবে দুই পক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপ ও আলোচনার অগ্রগতির ওপর।

সূত্র: তাসনিম নিউজ

জেএম
আরও পড়ুন