ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন কমে নেমে এসেছে ৩৬ শতাংশে, যা তার বর্তমান মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন।
রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপে উঠে এসেছে, গত এক সপ্তাহেই ট্রাম্পের অনুমোদন হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ৩৬ শতাংশে নেমে গেছে। চার দিনব্যাপী এই জরিপে বিশেষভাবে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনঅসন্তোষের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় ট্রাম্পের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সমর্থনও নেমে এসেছে ২৯ শতাংশে, যা তার দুই মেয়াদের মধ্যেই সর্বনিম্ন। এমনকি এই হার সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সর্বনিম্ন অর্থনৈতিক অনুমোদনের চেয়েও কম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকেই জ্বালানির দাম বাড়তে শুরু করে। এর প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে। যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় এক ডলার পর্যন্ত বেড়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।
জরিপে দেখা গেছে, ৬৩ শতাংশ আমেরিকান অর্থনীতিকে ‘দুর্বল’ হিসেবে দেখছেন। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ রিপাবলিকান, ৬৬ শতাংশ স্বতন্ত্র ভোটার এবং ৮৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাট রয়েছেন।
যুদ্ধ নিয়েও জনমত ট্রাম্পের পক্ষে নয়। বর্তমানে ৩৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের ইরান হামলাকে সমর্থন করছেন, বিপক্ষে রয়েছেন ৬১ শতাংশ। পাশাপাশি ৪৬ শতাংশ মনে করেন, এই সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কম নিরাপদ করে তুলবে।
তবে দলীয় রাজনীতিতে ট্রাম্প এখনও শক্ত অবস্থানে আছেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে তার প্রতি সমর্থন তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমলেও ডেমোক্র্যাটরা এখনো তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। অর্থনীতি, অভিবাসন ও অপরাধ দমনে রিপাবলিকানদের এগিয়ে মনে করছেন বেশি সংখ্যক ভোটার, আর স্বাস্থ্যসেবা ও নারীর অধিকারের মতো ইস্যুতে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স