ইরান যুদ্ধের ২৬ দিন

একদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা, অন্যদিকে ভয়াবহ যুদ্ধের বিস্তার

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০১:২২ পিএম

ইরান, ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা আরও তীব্রতর হয়েছে। যুদ্ধের ২৬তম দিনে পৌঁছে একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার মাধ্যমে ‘বিজয়’ ও সমঝোতার দাবি করছেন, অন্যদিকে রণক্ষেত্রে সেনা সংখ্যা বৃদ্ধি ও পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণহানি বেড়েই চলেছে।

তেহরানে হামলা

দক্ষিণ তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। পূর্ব তেহরানে একটি স্কুল ও বেশ কিছু আবাসিক ভবন ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে আঘাত

কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। সৌদি আরব তাদের তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে ৩২টি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। বাহরাইনে ইরানি হামলায় এক মরক্কান নাগরিক নিহত হয়েছেন।

লেবানন ও ইসরায়েল

লেবাননে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ জনসহ মোট ১,০৭২ জন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ১৯ মাইল এলাকা জুড়ে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ গড়ার ঘোষণা দিয়েছে। হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় উত্তর ইসরায়েলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

ট্রাম্পের দাবি ও কূটনৈতিক ধোঁয়াশা

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি মূল্যবান ‘উপহার’ দিয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের মধ্যস্থতায় একটি ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা তেহরানে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তেহরানের রাজপথে কোনো কূটনীতির রেশ নেই; সেখানে সামরিক প্রস্তুতিই এখন প্রধান। ইরাক সরকার তাদের দেশে হামলার প্রতিবাদে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকদের তলব করেছে।

বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকট

হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে শ্রীলঙ্কা রাস্তার বাতি নিভিয়ে ২৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের নির্দেশ দিয়েছে এবং ফিলিপাইন ‘জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের এলিট ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের ৩,০০০ সৈন্য মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

 

SN
আরও পড়ুন