যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ১৫ দফা পরিকল্পনা ইরানের কাছে পাঠানোর দাবি করেছেন, তার কোনো আনুষ্ঠানিক নথি এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। কী রয়েছে সেই প্রস্তাবে তা নিয়ে ওয়াশিংটন বা তেহরানের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত কিছু জানানো হয়নি। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে কিছু শর্ত প্রকাশ করেছে, যা নিয়ে ইতোমধ্যেই কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চ্যানেল ১২ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত শর্তগুলোর মধ্যে থাকবে, ইরানের নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বন্ধ করে ধ্বংস করা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার পূর্ণ তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এছাড়া ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি অর্থায়ন ও অস্ত্রসরবরাহসহ সমর্থন বন্ধ করতে বলা হবে। ইতোমধ্যে গড়ে তোলা পারমাণবিক সক্ষমতা নষ্ট করে ফেলা এবং ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা না করার প্রতিশ্রুতিও এই প্রস্তাবের অংশ হবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হবে ইরানের মাটিতে কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ না করা এবং বিদ্যমান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা সমৃদ্ধ উপাদান আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে উন্মুক্ত ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ হিসেবে রাখার বিষয়টিও উল্লেখ থাকবে।
মিসাইল কর্মসূচি নিয়েও সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব রয়েছে যেখানে পরিমাণ ও পাল্লা কমিয়ে কেবল আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের কথা বলা হবে।
এর বিপরীতে ইরানের জন্যও রাখা হয়েছে সুযোগ। এর মধ্যে রয়েছে বুশেহর বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করা।
একই সঙ্গে আলোচনা চলাকালে এক মাসের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে এই বিষয়েও এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা আসেনি। সূত্র: বিবিসি
একদিকে কূটনৈতিক তৎপরতা, অন্যদিকে ভয়াবহ যুদ্ধের বিস্তার
ইরানে যুদ্ধের এক মাসে অন্তত ২৪৩ শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিহত
শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েন করবে যুক্তরাষ্ট্র
