রাজধানীর হাজারীবাগে শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি (১৪) নামে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভাইয়ের সঙ্গে হাঁটতে বের হয়ে বখাটে সিয়ামের হামলার শিকার হন তিনি। রক্তমাখা ছুরি হাতে ঘাতক সিয়ামের পালিয়ে যাওয়ার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা যায়, রাত ৮টার দিকে বিন্তি ও তার ছোট ভাই নাবিল বাসার বাইরে বের হন। নাবিল বাজার থেকে তরকারি কিনে বোনের হাতে দিয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে একা পেয়ে বিন্তির ওপর হামলা চালায় একই স্কুলের শিক্ষার্থী সিয়াম। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বিন্তিকে কোপানোর পর সিয়াম নিজের হাত দিয়ে রক্তমাখা ছুরিটি পরিষ্কার করছে।
ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত বিন্তি জীবনের শেষ শক্তি দিয়ে পাশের বাসার এক নারীর কাছে হামলাকারীর নাম বলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ওই নারী জানান, বিন্তি তাকে জড়িয়ে ধরে বলতে থাকে ‘সিয়াম আমাকে ছুরি দিয়ে মেরেছে’। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত বিন্তির মা নাদিয়া বেগম জানান, ঘাতক সিয়াম গত ৩-৪ বছর ধরে বিন্তিকে মোবাইলে ডিস্টার্ব করত। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালেও সিয়াম উত্যক্ত করা বন্ধ করেনি। বিন্তির পরিবারের অভিযোগ, সিয়াম বিন্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ওত পেতে ছিল এবং পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম জানান, ঘটনার কিছু সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বিন্তির কাঁধ ও পিঠে একাধিক গভীর জখমের চিহ্ন রয়েছে। জনাকীর্ণ এলাকা হলেও বিন্তিকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে না আসা দুঃখজনক। অভিযুক্ত সিয়ামকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত বিন্তি রায়েরবাজার হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি পরিবারের সঙ্গে হাজারীবাগের হায়দার আলী হোটেলের পাশে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
হাজারীবাগে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে শিক্ষার্থী নিহত
