চড়া সবজির বাজারে ক্রেতার নাভিশ্বাস

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৫ এএম

রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির দামে স্বস্তি নেই। শীতের আগাম সবজি শিম উঠেছে ২০০ টাকা কেজিতে। বিপরীতে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা পেঁপে—কেজি ৩০ টাকা। শিম-পেঁপের এই দামের ব্যবধানের মধ্যেই বেশির ভাগ সাধারণ সবজির দাম ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের বাজার সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে শিমের পাশাপাশি বেগুন, টমেটো, করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স, পটল ও কাঁকরোলের দামও ক্রেতাদের বাড়তি চাপের মধ্যে ফেলেছে।

বাজারে লম্বা বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার দাম কেজিতে ৮০ টাকা। কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি এবং লাউ আকারভেদে প্রতি পিস ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে শসা কিছুটা কম দামে পাওয়া গেলেও দেশি শসার দাম তুলনামূলক বেশি। সাধারণ শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

তবে চড়া সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচে। কয়েক সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠে যাওয়া মরিচ এখন সরবরাহ বাড়ায় মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা আবুল মিয়া বলেন, “আজ বেগুন কিনেছি ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৫০ টাকা। এক পোয়া মরিচ কিনেছি ৪০ টাকায়। সব কিছুর দামই বেশি।”

সবজির পাশাপাশি মুরগি ও ডিমের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা দরে।

ডিমের দামও রয়েছে আগের উচ্চ পর্যায়েই। ফার্মের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকা এবং চারটি ৫৫ টাকা।

ডিম বিক্রেতা হাসান বলেন, “এখন ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৫৫ টাকা বিক্রি করছি।”

মাছের বাজারেও দামের তারতম্য

মাছের বাজারেও ক্রেতাদের জন্য খুব বেশি স্বস্তির খবর নেই। তবে বাজার ও মাছের আকারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

দেশি কইয়ের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কই প্রায় ৩০০ টাকা কেজি। পোয়া ২৬০ টাকা ও শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।

রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের কিছু ধরনের ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি দাম হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। মাছের আকার, জীবিত বা মৃত হওয়া এবং বাজারভেদে দামে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য রয়েছে।

মাছ বিক্রেতা আবির ইসলাম বলেন, মাছের দাম মূলত সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। তাঁর ভাষায়, সকালে যে দাম থাকে, বিকেলে সরবরাহ বা ক্রেতার উপস্থিতি অনুযায়ী তা পরিবর্তিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি হয়েছে সবজির দামে। আগাম শিমের ২০০ টাকা কেজির দাম যেমন ক্রেতাদের নজর কাড়ছে, তেমনি বেশির ভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির ৭০ থেকে ১২০ টাকার দরও বাড়তি ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত