ঢাকার রাতের কল সেন্টার জীবন: কাজের আড়ালের বাস্তবতা

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৪ এএম

রাত বাড়ে ঢাকায়। ব্যস্ত সড়কগুলো ধীরে ধীরে ফাঁকা হতে থাকে। দোকানের শাটার নামে, গণপরিবহনের সংখ্যা কমে আসে। কিন্তু শহরের কিছু অফিসে তখনই শুরু হয় নতুন কর্মদিবস।

কালাবাগান, মিরপুর, বনানী, বারিধারা কিংবা রাজধানীর বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় এমন অনেক অফিস আছে, যেখানে রাত ১০টা বা ১১টার পর কর্মব্যস্ততা বাড়তে থাকে। কম্পিউটার স্ক্রিনের আলো, হেডসেট কানে তরুণ-তরুণী, সামনে গ্রাহকের তথ্য—অন্য প্রান্তে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা কিংবা ইউরোপের কোনো গ্রাহক।

বাংলাদেশের কল সেন্টার ও বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও খাত গত দেড় দশকে তরুণদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্র তৈরি করেছে। শিল্পসংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, দেশে কল সেন্টার ও BPO ইকোসিস্টেমে প্রায় এক লাখ মানুষ কাজ করছেন। কিন্তু খাতটির প্রবৃদ্ধির আড়ালে রয়েছে কম বেতন, ক্যারিয়ার অগ্রগতির সীমাবদ্ধতা, কর্মী ধরে রাখার সমস্যা এবং বিশেষ করে রাতের শিফটের নানা চাপ।

রাতেই শুরু হয় অন্য এক কর্মদিবস

ঢাকার একটি কল সেন্টারে কাজ করা ২২ বছর বয়সী এক তরুণের অভিজ্ঞতা সম্প্রতি তুলে ধরেছে একটি গণমাধ্যম। প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর কর্মঘণ্টা শুরু হতো রাত সাড়ে ১০টার দিকে এবং শেষ হতো ভোর ৬টা বা ৭টার দিকে। ঘণ্টাভিত্তিক পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টাকা; তাঁর ক্ষেত্রে তা ছিল ৮৫ টাকা।

চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে তাঁকে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছিল, যার জন্য কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। কাজের বড় অংশ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকদের কাছে ফোন করে নির্দিষ্ট সেবা বিক্রির চেষ্টা করা।

এই অভিজ্ঞতা অবশ্য বাংলাদেশের সব কল সেন্টারের চিত্র নয়। প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প, কাজের ধরন, কর্মদক্ষতা ও চুক্তির ওপর বেতন ও সুবিধা অনেকটাই নির্ভর করে। কোথাও নির্দিষ্ট মাসিক বেতন, কোথাও ঘণ্টাভিত্তিক পারিশ্রমিক, আবার কোথাও টার্গেট ও কমিশননির্ভর ব্যবস্থা দেখা যায়।

তবে রাতের শিফটের মূল বাস্তবতা প্রায় একই—বাংলাদেশে যখন গভীর রাত, তখন কর্মীদের জন্য সেটিই অফিসের ব্যস্ততম সময়।

কেন তরুণরা রাতের চাকরি বেছে নেন?

এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া বা সদ্য স্নাতকদের জন্য কল সেন্টার তুলনামূলক সহজে প্রবেশযোগ্য চাকরির বাজার তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ছাড়াই আবেদন করার সুযোগ থাকে।

দ্বিতীয়ত, ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক দ্রুত আয় শুরু করা যায়। কিছু প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন কর্মীদের আন্তর্জাতিক গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলার উপযোগী করে তোলে।

তৃতীয়ত, বিদেশি গ্রাহকদের সঙ্গে কাজ করা প্রতিষ্ঠানের কর্মঘণ্টা স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের রাতের সঙ্গে মিলে যায়। ফলে যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক সময় ধরে রাখতে ঢাকার কর্মীদের রাতের শিফটে কাজ করতে হয়।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (BTRC) কল সেন্টার/BPO নিবন্ধন কাঠামোতেও আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কল সেন্টার এবং ব্যাক-অফিস কার্যক্রমের কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে এই খাতকে শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান এবং বিদেশি আয় আনার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

চাকরি আছে, কিন্তু ক্যারিয়ার কতটা?

একসময় কল সেন্টারের চাকরি অনেক তরুণের কাছে আধুনিক ও আকর্ষণীয় কর্মজীবনের প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু শিল্পসংশ্লিষ্টদের উদ্ধৃত করে ২০২৬ সালের একটি প্রতিবেদনে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, অনেক তরুণ এখন কল সেন্টারের চাকরিকে দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার না ভেবে সাময়িক কর্মসংস্থান হিসেবে দেখছেন।

এর পেছনে রয়েছে বেতন স্থবির থাকা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সীমিত পদোন্নতির সুযোগ এবং রাতের শিফটের সামাজিক ও ব্যক্তিগত চাপ। কর্মী চলে যাওয়ার হারও বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ একজন তরুণ হয়তো প্রথম চাকরি হিসেবে কল সেন্টারে ঢুকছেন, ইংরেজিতে যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াচ্ছেন, কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন—তারপর অন্য চাকরি, বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি কিংবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার দিকে চলে যাচ্ছেন।

স্বাভাবিকভাবে মানুষের শরীর দিনের বেলা সক্রিয় এবং রাতে ঘুমের জন্য প্রস্তুত থাকে। কিন্তু রাতের শিফটে এই স্বাভাবিক ছন্দ উল্টে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ (NIOSH) জানিয়েছে, রাত বা অনিয়মিত শিফট ঘুমকে ব্যাহত করতে পারে এবং এর সঙ্গে ক্লান্তি, মনোযোগ কমে যাওয়া, স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা কমার মতো সমস্যা যুক্ত হতে পারে।

একটি বড় কর্মী-গবেষণায় রাতের শিফটে কাজ করা কর্মীদের মধ্যে ঘুমসংক্রান্ত সমস্যার হার দিনের কর্মীদের তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে। গবেষণায় রাতের শিফট কর্মীদের মধ্যে অনিদ্রার হার দিনের কর্মীদের তুলনায় বেশি ছিল।

কল সেন্টারের কাজের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখানে কর্মীকে দীর্ঘ সময় ধরে হেডসেটে কথা বলতে হয়, স্ক্রিনে তথ্য দেখতে হয়, গ্রাহকের প্রশ্নের দ্রুত উত্তর দিতে হয় এবং অনেক সময় নির্দিষ্ট বিক্রয় বা পারফরম্যান্স টার্গেট পূরণ করতে হয়। ঘুম কমে গেলে সেই চাপ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

ফোনের ওপাশে গ্রাহক, এপাশে টার্গেট

কল সেন্টারের কাজকে বাইরে থেকে অনেক সময় শুধু ‘ফোনে কথা বলা’ বলে মনে হতে পারে। বাস্তবে কাজের ধরন অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত।

কতগুলো কল করতে হবে, কতক্ষণ কথা বলা যাবে, কতজন গ্রাহককে সেবা দেওয়া হলো, কতটি বিক্রয় হলো, গ্রাহক কতটা সন্তুষ্ট—এসব সূচক অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মীর পারফরম্যান্স মূল্যায়নের অংশ।

বিশেষ করে টেলিসেলসের ক্ষেত্রে একটি ফোন কল সফল না হলে পরের কল শুরু হয়। একই ধরনের কথোপকথন ঘণ্টার পর ঘণ্টা চালিয়ে যেতে হয়।

এতে কাজটি শারীরিকভাবে খুব শ্রমসাধ্য না হলেও মানসিকভাবে একঘেয়ে ও চাপপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আন্তর্জাতিক গবেষণায় কল সেন্টার অপারেটরদের মধ্যে শিফটভিত্তিক কাজ, একঘেয়েমি ও সময়ের চাপের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের ক্লান্তি ও বার্নআউটের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

অন্য একটি গবেষণাতেও নির্দিষ্ট রাতের শিফটের সঙ্গে স্বল্প সময়ের ঘুম ও অনিদ্রার ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

ভোরে অফিস ছুটে, তখনও দিন শুরু হয়নি

রাতের শিফটে কাজ করা একজন কর্মীর অফিস শেষ হয় যখন শহরের অধিকাংশ মানুষের দিন শুরু হয়।

ভোরে অফিস থেকে বেরিয়ে তিনি দেখেন স্কুলগামী শিশু, অফিসগামী মানুষ, বাজারের ব্যস্ততা—সবকিছু শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু তাঁর জন্য তখন ঘুমের সময়।

এখানেই তৈরি হয় সামাজিক জীবনের সঙ্গে দূরত্ব। বন্ধুদের সঙ্গে রাতের আড্ডা সম্ভব নয়। পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক সময় কাটানো কঠিন। কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান থাকলে ঘুম ও কাজের সঙ্গে সেটি সমন্বয় করতে হয়।

আর যারা পরিবারে থাকেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল। পরিবারের সদস্যরা দিনের বেলা সক্রিয় থাকলেও কর্মী তখন ঘুমিয়ে থাকেন।

এই কারণে রাতের শিফট শুধু কর্মঘণ্টা পরিবর্তন করে না; বদলে দেয় জীবনযাপনের সময়সূচিও।

নারী কর্মীদের জন্য বাস্তবতা আরও জটিল

রাতের চাকরি নিয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও একটি বড় বিষয়। বাংলাদেশের শ্রম আইনে প্রাপ্তবয়স্ক নারী শ্রমিককে তাঁর সম্মতি ছাড়া রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে কাজ করানো যাবে না। অর্থাৎ নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে রাতের শিফটের জন্য তাঁদের সম্মতির বিষয়টি আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

বাস্তবে নিরাপদ যাতায়াত, পরিবারের সম্মতি, কর্মস্থলে পরিবহন সুবিধা এবং সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন নারী কর্মীদের রাতের চাকরি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের BPO খাত নিয়ে ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে শিল্পসংশ্লিষ্টদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, অনেক পরিবার বিশেষ করে মেয়েদের রাতের শিফটে কাজ করার অনুমতি দিতে চায় না।

ফলে একই ধরনের দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও নারী ও পুরুষ কর্মীর কর্মসংস্থানের বাস্তবতা এক নাও হতে পারে।

আইন কী বলছে?

রাতের শিফট মানেই আইন লঙ্ঘন—এমনটি বলা যায় না। আন্তর্জাতিক গ্রাহকের জন্য ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া কল সেন্টারের ক্ষেত্রে শিফটভিত্তিক কাজ স্বাভাবিক ব্যবসায়িক প্রয়োজন হতে পারে।

তবে বাংলাদেশের শ্রম আইনে কর্মঘণ্টা, বিশ্রাম ও সাপ্তাহিক ছুটির বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে।

আইন অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক সাধারণত দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করবেন না; নির্দিষ্ট শর্তে তা ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণভাবে সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টাও ৪৮ ঘণ্টার বেশি হওয়ার কথা নয়, যদিও আইনে নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম ও অতিরিক্ত কাজের বিধান রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানকে কর্মীদের কাজের সময়সূচিও পরিষ্কারভাবে প্রদর্শন করতে হয় এবং সেই সময়সূচি আইনসিদ্ধ কর্মঘণ্টা ও বিশ্রামের বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কথা।

তাই কোনো কল সেন্টারে রাতের শিফট থাকলেই সেটি বেআইনি—এমন সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম, বিরতি, ছুটি ও কর্মীর সম্মতির বিষয়গুলো আলাদাভাবে দেখতে হবে।

শুধু রাত নয়, দীর্ঘ কর্মঘণ্টাও ঝুঁকি

রাতের শিফটের সঙ্গে যদি দীর্ঘ কর্মঘণ্টা যুক্ত হয়, ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) যৌথ বিশ্লেষণে সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজের সঙ্গে স্ট্রোক ও ইস্কেমিক হৃদরোগে মৃত্যুর বাড়তি ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণাটি ২০০০ থেকে ২০১৬ সালের বৈশ্বিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল।

এটি কল সেন্টার কর্মীদের জন্য সরাসরি বাংলাদেশভিত্তিক ঝুঁকির হিসাব নয়। কিন্তু দীর্ঘ কর্মঘণ্টা যে পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত—তা বোঝার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক প্রমাণ।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (IARC) দীর্ঘমেয়াদি রাতের শিফটের কারণে শরীরের স্বাভাবিক সার্কাডিয়ান ছন্দ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে রাতের শিফট কাজকে ‘probably carcinogenic to humans’ বা গ্রুপ ২এ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।

এখানেও সতর্কতা জরুরি—এটি কোনো নির্দিষ্ট কল সেন্টার কর্মীর ভবিষ্যৎ রোগের পূর্বাভাস নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি রাতের শিফট নিয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণার ভিত্তিতে করা একটি ঝুঁকি শ্রেণিবিন্যাস।

AI বদলে দিচ্ছে কল সেন্টারের ভবিষ্যৎ

ঢাকার রাতের কল সেন্টারের গল্প শুধু শ্রম ও ঘুমের গল্প নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে প্রযুক্তির পরিবর্তনও।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যে BPO খাতের কিছু পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করছে। দ্য ডেইলি স্টার-এর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের একটি outsourcing প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, একটি প্রকল্পে AI ব্যবহারের পর সংশ্লিষ্ট কাজের ৮০ শতাংশের বেশি চাকরি কমে যায়।

এর অর্থ, আগামী দিনের কল সেন্টার কর্মীদের শুধু ভালো ইংরেজি বললেই হয়তো চলবে না। প্রয়োজন হতে পারে প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, জটিল গ্রাহকসেবা পরিচালনা এবং AI-সহায়ক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সক্ষমতা।

অর্থাৎ রাতের শিফটের পাশাপাশি তরুণ কর্মীদের সামনে আরেকটি প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে—এই চাকরিতে তাঁরা কতটা ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারছেন?

তাহলে সমাধান কোথায়?

কল সেন্টার খাতকে শুধু ‘রাত জাগার চাকরি’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। এটি বাংলাদেশের সেবা রপ্তানি, তরুণ কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক গ্রাহকসেবা খাতের একটি অংশ।

সমস্যা হলো, এই কর্মসংস্থান কতটা টেকসই এবং কর্মীবান্ধব।

রাতের শিফটে কাজ করা কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম, যুক্তিসংগত শিফট দৈর্ঘ্য, নির্ধারিত বিরতি, নিরাপদ যাতায়াত, সময়মতো বেতন, স্বচ্ছ টার্গেট, প্রশিক্ষণের ন্যায্যতা এবং ক্যারিয়ার অগ্রগতির সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ।

NIOSH-এর সুপারিশেও শিফট পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, রাতের শিফটের দৈর্ঘ্য নিয়ন্ত্রণ এবং ঘুমের পরিবেশ উন্নত করার মতো বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কর্মীদেরও বুঝতে হবে—রাতের চাকরি সাময়িকভাবে আয় বাড়াতে সাহায্য করলেও দীর্ঘমেয়াদে ঘুম, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম ও মানসিক চাপকে অবহেলা করলে তার মূল্য দিতে হতে পারে।  ঢাকা কল সেন্টার, তরুণ, কর্মজীবন

ওয়াইএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত