আগুনে পুড়লো মাদরাসা

নামাজে গিয়ে রক্ষা পেলেন ৩৫ ছাত্র-শিক্ষক

আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৭ এএম

বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের মহাবাজ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিং সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

তবে মাগরিবের নামাজ আদায়ের জন্য পার্শ্ববর্তী মসজিদে অবস্থান করায় মাদ্রাসার ৩৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের মধ্যেও পবিত্র কোরআন শরিফের হরফ অক্ষত থাকায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে মাদিনাতুল উলুম নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং এতিমখানা লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে টিনশেড নির্মিত পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট মাদ্রাসাটিতে। এতে শিক্ষার্থীদের থাকার কক্ষ, রান্নাঘর, পাঠদানের উপকরণ, বইপত্র, বিছানাপত্রসহ প্রায় সব মালামাল ভস্মীভূত হয়ে যায়।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে আবাসিক ও অনাবাসিক মিলিয়ে মোট ৩৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সবাই পাশের একটি মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করছিলেন।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, “নামাজের শেষের দিকে আমরা আগুনের খবর পাই। ছুটে এসে দেখি পুরো মাদ্রাসা দাউ দাউ করে জ্বলছে। কিছুই আর রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে আল্লাহর রহমতে ভেতরে কেউ না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুনে কোরআন শরিফের মলাট পুড়লেও এর হরফ ও আয়াত অক্ষত রয়েছে।”

খবর পেয়ে বরিশাল সদর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ঘটনায় আনুমানিক ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা ও দৈনন্দিন খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত পুনর্বাসন ও সহায়তার জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

HN
আরও পড়ুন