ভুল রক্ত পুশ করায় প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ, ক্লিনিকে হামলা

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৩ এএম

ভোলায় অস্ত্রপাচারের পর ভুল রক্ত পুশ করায় লামিয়া (১৯) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে বন্ধন হেলথ কেয়ার নামের একটি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। নিহত লামিয়া ভোলা পৌরসভার আবহাওয়া অফিস সড়ক এলাকার মো: শরিফের স্ত্রী।

এ ঘটনায় উত্তেজিত রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা ক্লিনিকে হামলা করেন এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ভোলা শহরের কালিনাথ রায়ের বাজারে অবস্থিত বন্ধন হেলথ কেয়ারের সামনে ঘণ্টা ব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয়রা। এ সময় তারা ক্লিনিকের মালিক ও স্টাফসহ বিচার দাবি করেন। 


এর আগে বিকেল ৫টার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান লামিয়া।

এদিকে, ভোলায় ‘বন্ধন হেলথ কেয়ার’ এ ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দেন।’

লামিয়ার স্বজনরা জানান, গত বুধবার প্রসূতি লামিয়াকে ভোলা শহরের বন্ধন হেলথ কেয়ারে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথমে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়, পরে অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে ছেলে সন্তান জন্ম দেন তিনি। পরে ক্লিনিক থেকে ওই প্রসূতিকে রক্ত দেয়ার কথা বলা হয় এবং তাদের কাছে এক ব্লাড বি পজেটিভ রক্ত আছে বালে তাদের কাছ থেকে ক্রোসম্যাসের জন্য ১২০০টাকাও নেয়া হয়। 

পরে এক ব্যাগ রক্ত পুশ করা হয় তাকে এবং আরো এক ব্যাগ ও পজেটিভ রক্ত ম্যানেজ করতে বলেন। রক্ত পুশ করার পর থেকেই প্রসূতির শরীরে অস্থিরতা শুরু হলে তাকে দ্রুত বরিশাল পাঠানো হয়। বরিশাল নেয়ার পর তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীকে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চার দিন পর তার মৃত্যু হয়। বরিশাল নেয়ার পর সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন রোগীকে ভুল রক্ত পুশ করা হয়েছে। ডেথ সার্টিফিকেটেও ভুল রক্ত পুশ করায় মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সেখানকার চিকিৎসক। তারা এ ঘটনায় ক্লিনিক মালিক ও স্টাফদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ভোলা সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো: জিয়া উদ্দিন জানান, ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভোলার বন্ধন ক্লিনিকে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ক্লিনিকের সামনে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা পুলিশ সুপার মো: শহিদুল্লাহ কাওছার, পিপিএম (বার) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। 

তিনি বলেন, এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা প্রমাণিত হলে দায়িদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি সকলকে ধৈর্য ধারণ করে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানান।

HN
আরও পড়ুন