ফরিদপুরে মা-মেয়েসহ ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০২ এএম

ফরিদপুর সদর উপজেলার গদারডাঙ্গী খুশির বাজার এলাকায় মা-মেয়েসহ ৩ জনকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম আকাশ মোল্লা (৪০), যিনি ওই এলাকার হারুন মোল্লার ছেলে এবং ফরিদপুর যক্ষ্মা হাসপাতালের পিয়ন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই আকাশ পলাতক রয়েছেন।

নিহতরা হলেন আকাশের দাদি আমেনা বেগম (৭৫), ফুপু সালেহা বেগম (৫৫) এবং প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরী (৪৯)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,ঘটনার সময় আকাশ যখন তার দাদি ও ফুপুকে আক্রমণ করছিলেন, তখন তাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরী। ঘাতক আকাশ তখন তাকেও পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। এছাড়া রিয়াজুল ইসলাম নামের আরেক প্রতিবেশী এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠান।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আকাশ পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘাতক আকাশকে গ্রেপ্তারের জন্য চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হত্যাকাণ্ডের পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, রাত পৌনে ১২টার দিকে লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম (এসপি) জানান, তিনজনের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠনো হয়েছে।

HN
আরও পড়ুন