চট্টগ্রামে বাস-লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩

আপডেট : ২৯ মে ২০২৬, ০৪:১৫ এএম

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭ জন যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (ঈদের দিন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। হতাহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

যেভাবে ঘটলো এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় পটিয়ামুখী একটি যাত্রীবাহী লেগুনার সঙ্গে বিপরীত দিক (কক্সবাজার) থেকে আসা চট্টগ্রামমুখী ‘ঈগল পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগতির বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। 

সংঘর্ষের বিকট শব্দ শুনে আশেপাশের বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি থেকে হতাহতদের উদ্ধার কাজ শুরু করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মহাসড়কের এক পাশে চার চাকার লেগুনাটি দুমড়েমুচড়ে পড়ে আছে। 

এর সামনের অংশটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং চারদিকের রাস্তায় কাচের টুকরো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। স্থানীয়রা লেগুনার ভেতরে আটকে থাকা রক্তাক্ত ও আহত যাত্রীদের বের করে আনছেন।

চমেক হাসপাতালে ৩ জনকে মৃত ঘোষণা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মোট ১০ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে চমেক হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ৩ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বর্তমানে আহত বাকি ৭ জনের চিকিৎসা চলছে, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

চালক পলাতক, তদন্তে পুলিশ

 

দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত কর্ণফুলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পরিতোষ দাশ জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর পরই বাস ও লেগুনা দুটি জব্দ করা হয়েছে। তবে দুই গাড়ির চালকই ঘটনার পর সুযোগ বুঝে পালিয়ে গেছে। দুর্ঘটনাটি ঠিক কী কারণে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের যৌথ সহায়তায় দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

HN
আরও পড়ুন