৭১ জন এমপি ও পিয়ারের চিঠিতে কী বলা হয়েছে?

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চান ৭১ ব্রিটিশ এমপি

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগ তুলে যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্যদের একটি বড় অংশ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং দেশটির বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছে।

স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অন্তত ৭১ জন এমপি ও পিয়ার গত সপ্তাহে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

লেবার পার্টির এমপি নিল ডানকান-জর্ডানের নেতৃত্বে পাঠানো ওই চিঠিতে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ৩০ জন এমপি ও সাতজন পিয়ারের স্বাক্ষর রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর নির্যাতনের জন্য ইসরায়েল সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সরাসরি দায়ী।

চিঠিতে যুক্তরাজ্য সরকারকে ইসরায়েলের কথিত ‘দায়মুক্তির সংস্কৃতি’ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এ জন্য নেতানিয়াহুর পাশাপাশি ইসরায়েলের উপ-প্রধানমন্ত্রী, বিচারমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী ইয়ারিভ লেভিনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানানো হয়েছে।

আইনপ্রণেতারা চিঠিতে উল্লেখ করেন, গত বছর ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গাভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি ইসরায়েল সরকারের আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি। বরং তাদের দাবি, এরপর থেকে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়েছে।

চিঠিতে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, হেফাজতে নির্যাতন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, জীবনধারণের উপকরণ ধ্বংস এবং বঞ্চনার মতো কর্মকাণ্ড ফিলিস্তিনি জনগণকে দমন ও শাস্তি দেওয়ার একটি অংশে পরিণত হয়েছে।

ধর্ষণ মামলা ও ব্রিটিশ নাগরিক আটকের অভিযোগ

কয়েক মাস আগে এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে ধর্ষণের অভিযোগে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে করা একটি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন।

এ ছাড়া, দুই মাস আগে গাজার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের একটি ত্রাণবাহী নৌবহরকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী আটকে দেয়। ওই ঘটনায় কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিককে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছিল বলেও চিঠিতে অভিযোগ করা হয়।

এই চিঠিতে গ্রিন পার্টি, প্লেইড কামরি, সিন ফেইন, এসডিএলপি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস ও স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির আইনপ্রণেতারা স্বাক্ষর করেছেন। পাশাপাশি একজন কনজারভেটিভ পার্টির এমপিও এতে স্বাক্ষর করেছেন।

যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের এক মুখপাত্র জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে বন্দিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবেদনগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি ইসরায়েল সরকারের কাছে উত্থাপন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সব বন্দির সঙ্গে মানবিক মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আচরণ করতে হবে এবং নির্যাতন বা দুর্ব্যবহারের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

যুক্তরাজ্য ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটিকে যেন অবিলম্বে এবং কোনো বাধা ছাড়াই সব বন্দিশালায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়।

মুখপাত্র আরও বলেন, শত শত ফিলিস্তিনি শিশুকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েলি হেফাজতে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার পরিস্থিতি

গত মার্চে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের বিশেষ কর্মকর্তা ফ্রান্সেসকা আলবানিজ জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া প্রতিবেদনে অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি কারাগার ব্যবস্থা একটি ‘পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতার পরীক্ষাগারে’ পরিণত হয়েছে।

প্রতিবেদনে তিনি ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি অভিযান শুরুর পর থেকে ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি ইসরায়েলি হেফাজতে মারা গেছেন বলে জানা গেছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

NM/YA
আরও পড়ুন