হাসপাতালে ৩৯ ঘণ্টায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম

বিদ্যুৎ সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বরিশাল সরকারি জেনারেল হাসপাতালের রোগী ও স্বজনরা। হাসপাতালের জন্য আলাদা ফিডার থাকলেও গত ৩৯ ঘণ্টায় নয় দফায় মোট ৭ ঘণ্টা ৪০ মিনিট লোডশেডিং হয়েছে। অথচ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, মানবিক কারণে হাসপাতালটির ফিডারে তুলনামূলক কম লোডশেডিং দেওয়া হয়।

পলাশপুর গ্রিড সাব-স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ১২টা থেকে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৩টা পর্যন্ত সদর হাসপাতাল ফিডারে নয়বার লোডশেডিং দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছয়বার এক ঘণ্টা করে এবং বাকি তিনবার যথাক্রমে ৪৫ মিনিট, ৩৮ মিনিট ও ১৭ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তখনও লোডশেডিং চলছিল। ভাদ্রের ভ্যাপসা গরমে রোগীরা কষ্ট পাচ্ছিলেন। স্বজনদের অনেকে হাতপাখা দিয়ে রোগীদের বাতাস করছিলেন। হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের টিনশেড ভবনে ডেঙ্গু রোগীদেরও মশারির ভেতরে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প হিসেবে হাতপাখা ও মোমবাতির ওপর নির্ভর করতে হয়। আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানান, করোনা মহামারির সময় জেনারেটরটি সচলের চেষ্টা করা হলেও প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, এটি আর চালু করা সম্ভব নয়। তবে লোডশেডিংয়ের সময় আইপিএসের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার কক্ষ সচল রাখা হয়।

পলাশপুর সাব-স্টেশনের বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, হাসপাতালের গুরুত্ব বিবেচনায় সদর হাসপাতাল ফিডারে সবচেয়ে কম লোডশেডিং দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

ওজোপাডিকোর তথ্য অনুযায়ী, পলাশপুর সাব-স্টেশনের আওতায় সাতটি ফিডার রয়েছে। পিক সময়ে এই সাব-স্টেশনে বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যায় সর্বোচ্চ ৯ থেকে সাড়ে ৯ মেগাওয়াট। ফলে একসঙ্গে অন্তত তিনটি ফিডারে লোডশেডিং দিতে হয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলায় পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১৬০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি পূরণে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

এদিকে লোডশেডিং নিয়ে সাব-স্টেশনের কর্মীদের ওপর স্থানীয়দের ক্ষোভ ও চাপের ঘটনাও ঘটছে। কর্মকর্তারা জানান, কখনও রোগীর অক্সিজেন বা জরুরি প্রয়োজনের কথা জানালে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে হয়। আবার প্রভাবশালীদের ফোন ও নানা চাপেও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় তাদের বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এএম
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত