রেলের খুপরিতেই বাস তালেব আলীর

আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:৩৩ পিএম

ভূমিহীন তালেব আলী। জেলা সদরের বাংলা রেলস্টেশনের কলোনিতে একটি পরিত্যক্ত খুপরিতেই বাস করেন। মাথা গোঁজার মতো জমি নেই তার। স্ত্রী, কন্যা, নাতি- নাতনিসহ ছয়জন নিয়ে একবছর আগে আশ্রয় নেন। সরকারের কাছে মাথা গোঁজার একটি ঘর দাবি তার।

জানা যায়, অভাবে গ্রামের পৈতৃক সামান্য বাড়িটুকু বিক্রি করে ভূমিহীন হয়ে পড়েন তালেব আলী। তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একবছর আগে আশ্রয় নিয়েছেন বাংলা রেলওয়ে স্টেশনের খুপরিতে। মাঝে মাঝে অসুস্থ শরীর নিয়ে ভাড়ায় চালান রিকশা। পরিবারের হাল ধরতে আর কোনো উপায় না থাকায় স্ত্রী জমিলা খাতুন পিঠা বিক্রি করেন। তাতেও সংসার চলে না। অনাহারে অর্ধাহারে কাটে দিন। তার একমাত্র মেয়ে শরমিনা আক্তার (২০)। সাত বছর আগে স্বামী রুবেল মিয়া সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। স্বামী মারা যাওয়ার পর বাবার কাছে ফিরে আসেন শরমিনার দুই মেয়ে রোজিনা (৫) ও শাপলা (৮)। দুজনের নিম্ন আয় দিয়ে দিনাতিপাত করছেন।

মাথা গোঁজার ঠাঁই চাইতে গিয়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে অবহেলিত হয়ে অবশেষে রেলের পরিত্যক্ত খুপরিতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান অসহায় তালেব আলী। তার মেয়ে শরমিনা আক্তার বলেন, আমি স্বামী হারাইয়া দুই ছুডু মাইয়া লইয়া বাবার কাছে আইছি। স্বামীর কুনু বাড়ি জমি কিছু নেই। হে দিনমজুর আছিল। সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বছর অইছে মারা গেছে। মাঝে মধ্যে মাইনসের বাড়িত কাম করি। বাংলা ছুডু বাজারে কামও কম। চলার পথ নেই।

তালেব আলীর স্ত্রী বলেন, স্বামী শ্বাসকষ্টের রোগী। পইরা গিয়া আমার পায়ের হাড় ভাইঙ্গা গেছে। মেয়ের জামাই মইরা গেছে। থাকনের ঘর নেই। আল্লাহ কিয়ের লাইগ্যা অভাগীরে বাঁচাইয়া রাখছেন জানি না। পিডা বেইচ্যা দিন চলে না। খাইয়া না খাইয়া খুপরিত পইড়া থাহি। সরকারি কুনু সাহায্য ও পাই না।

তালেব আলী আবেগ আপ্লুতকন্ঠে বলেন, অসুস্থ অইয়া রিকশাও চালাতাম পারি না। টেহার অভাবে ওষুধও খাইতাম পারি না। বাচ্চার মা পিডা বেইচ্যা আর সংসার চালাইতে পারে না। কতজনে কতো সরকারি ঘর পাইছে আমি পাইনি। কপাল খারাপ আমার। আমি থাহার একটা ঘর ও জমি চাই। রেলের অফিসার তুইল্যা দিলে আবার ইস্টিশনে রাইত কাটাইতে অইবো।

স্থানীয় বাংলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আক্কাস আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। নেত্রকোনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া তাবাসসুম জানান, রেলের খুপরিতে এরকম অসহায় পরিবার আছে, আমি বিষয়টি জানতাম না। উনি আবেদন করুক। বাংলা ইউনিয়নে আশ্রয় প্রকল্প নেই। যেহেতু সদর উপজেলার, তবুও তার জন্য খোঁজ নিয়ে একটা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

FI
আরও পড়ুন