তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ফরাসি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। বিচারিক আদেশের ভিত্তিতে কেন্দ্রটি সিলগালা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের তেহরান প্রসিকিউটরের কার্যালয়। খবরটি প্রথমে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি ভাষা শেখানোর আড়ালে প্রয়োজনীয় সরকারি লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। একাধিকবার সতর্ক করার পরও প্রতিষ্ঠানটি লাইসেন্স নেয়নি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
তেহরান প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাদের দাবি, ভাষা শিক্ষার আড়ালে কেন্দ্রটি ইরানের সংস্কৃতি ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল। এর মধ্যে ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, বিভিন্ন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং দক্ষ ও মেধাবী ইরানিদের দেশ ছাড়তে সহায়তা করার মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কেন্দ্রটি Center de Langue Française de Téhéran (CLF) নামে পরিচিত। ফরাসি ভাষা শেখানোর পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ফরাসি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করত। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত সেখানে ফরাসি ভাষার কোর্স এবং TCF ও DELF-DALF পরীক্ষার আয়োজনের তথ্য পাওয়া যায়।
ফরাসি ভাষা কেন্দ্র বন্ধের ঘটনা ইরান ও ফ্রান্সের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিল। গত আগস্টে ইরান দুই ফরাসি কূটনীতিককে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। তেহরানের অভিযোগ ছিল, ওই কূটনীতিকরা ‘অবৈধ কর্মকাণ্ডে’ জড়িত ছিলেন এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিলেন। এর জবাবে ফ্রান্সও ইরানের দূতাবাসের দুই কর্মীকে ‘persona non grata’ ঘোষণা করে বহিষ্কার করে।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করে, ১৯ জুলাই তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের দুই কর্মীর সঙ্গে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী গুরুতর আচরণ করেছে এবং ঘটনাটি কূটনৈতিক সম্পর্কের আন্তর্জাতিক বিধি লঙ্ঘন করেছে। তবে ইরান ফ্রান্সের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরানের বক্তব্য ছিল, ওই দুই ফরাসি কর্মীকে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তদন্তের আওতায় থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়নি।
ইরান ও ফ্রান্সের সম্পর্কের অবনতির প্রভাব এখন কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমেও পড়ছে। ফরাসি ভাষা কেন্দ্রটি তেহরানে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল এবং ফ্রান্সের ভাষা ও শিক্ষা সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফরাসি পক্ষ এখন পর্যন্ত কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন পেজেশকিয়ান
সৌদির সামরিক প্রয়োজন মেটাতে তুরস্ক প্রস্তুত: হাকান ফিদান
'এনপিটি' থেকে ইরানের বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা খোলা: আজিজি