সুনামগঞ্জে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৫, ১০:১২ এএম

সুনামগঞ্জে বাসের ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার জেরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। ফলে রোববার সন্ধ্যা থেকে সুনামগঞ্জের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

রোববার (৩ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) শান্তিগঞ্জের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের সামনে বাসভাড়া নিয়ে হেল্পারের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে হেল্পার একজন শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। শ্রমিকদের দাবি, শিক্ষার্থীরা বাসে ভাঙচুর চালিয়ে হেল্পারকে মারধর করে এবং পরে ক্যাম্পাসে আটকে রাখে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেল ৩টা থেকে সুনামগঞ্জ শহরের নতুন বাসস্টেশন এলাকায় সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে পরিবহন শ্রমিক ও মালিকেরা। এতে শহরজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়, বৃষ্টির মধ্যে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

ঘটনার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ প্রশাসন শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলমান থাকবে। পরে রোববার রাত ১০টার দিকে শ্রমিক নেতারা জরুরি বৈঠকে বসেন। 

বৈঠক শেষে জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুজাউল কবির বলেন, তিন দফা দাবিতে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে যাচ্ছেন। ধর্মঘট শুরুর পর থেকে সুনামগঞ্জ থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক নেতারা আরও জানান, সোমবার সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে সিএনজিচালিত অটোরিকশাও চলবে না।

ধর্মঘটের বিষয়ে শ্রমিকদের তিন দফা দাবি তুলে ধরেন জেলা বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল হক। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলাকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং পাঁচ মাস ধরে কারাগারে থাকা এক শ্রমিকের মুক্তি। এছাড়া তিনি বলেন, সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর মামলা হলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ।

এদিকে, সুবিপ্রবির রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জ থেকে শান্তিগঞ্জে ফেরার পথে ভাড়ার বিষয় নিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জয় ও আরিফসহ কয়েকজনের সঙ্গে হেল্পারের কথা কাটাকাটি হয়। হেল্পার এক পর্যায়ে একজনকে ধাক্কা দেন। শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, হেল্পার মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন।

সুনামগঞ্জ জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সুজাউল কবির আরও বলেন, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আগেও শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। এবারও এক হেল্পারকে মারধর ও বাস ভাঙচুর করা হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করছি। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে শ্রমিকরা এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

SN
আরও পড়ুন