দুই পা হারিয়ে দেশে ফিরলেন প্রবাসী

দুই পা হারিয়ে ফিরলেন দেশে, আদালত পাঠালো কারাগারে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

সৌদি আরবে জীবিকার সন্ধানে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়েছেন রফিকুল ইসলাম সরদার (৩৫)। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দীর্ঘ চিকিৎসার পর দেশে ফিরেছেন তিনি। চলাফেরা করতে পারেন না, নিজের দৈনন্দিন কাজও অন্যের সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়। এমন শারীরিক অবস্থায় মাদক মামলায় দণ্ডিত এই ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বরিশালের একটি আদালত।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বরিশালের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করে। আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে বিচারক পলি আফরোজ আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রেজাউল ইসলাম।

দণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম সরদার বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ভীমেরপাড় গ্রামের ফারুক সরদারের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে রফিকুলসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ৬০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে বিদেশে চলে যান এবং আদালতে অনুপস্থিত থাকায় ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রফিকুলের স্বজনদের দাবি, মামলার বিচার চলাকালেই তিনি কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কর্মস্থলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার দুই পা কেটে ফেলতে হয়। এছাড়া দুই হাত এবং মাথা থেকে পিঠ পর্যন্ত শরীরের বড় অংশ ঝলসে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর গত মাসে দেশে ফেরেন তিনি।

রফিকুলের চাচা জাকির সরদার বলেন, ’দুই দিন আগে পুলিশ বাড়িতে এসে রফিকুলের বর্তমান শারীরিক অবস্থা দেখে আদালতে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেয়। আমরা ভেবেছিলাম, এমন অবস্থায় আদালত মানবিক দৃষ্টিতে অন্তত জামিন দেবেন। কিন্তু সেটি হয়নি।’

আরেক চাচা তরিকুল সরদারের ভাষ্য, ’রফিকুলের দেখাশোনার জন্য সব সময় কয়েকজন মানুষের প্রয়োজন হয়। তার কাটা পায়ে সংক্রমণ রয়েছে। একা খাওয়া-দাওয়া কিংবা ব্যক্তিগত কোনো কাজই করতে পারে না। এই অবস্থায় কারাগারে তার চিকিৎসা ও সেবাযত্ন নিয়ে পরিবার গভীর উদ্বেগে রয়েছে।’

রফিকুলের আইনজীবী একরামুজ্জামান জয় বলেন, ’তিনি চলাচলে সম্পূর্ণ অক্ষম। পালিয়ে যাওয়ার কোনো বাস্তব সুযোগ নেই। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন করেছিলাম। কিন্তু আদালত তা মঞ্জুর করেননি। এখন উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করা হবে।’

পরিবারের সদস্যদের দাবি, আইনের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে রফিকুলের বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় আদালতের মানবিক দৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছেন তারা।

MCH/SN
আরও পড়ুন