নকলের দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে তাণ্ডব শিক্ষার্থীদের

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে প্রশ্ন কঠিন হওয়ার অভিযোগ এবং নকলের সুযোগ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থীদের একাংশ ভাঙচুর চালিয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে পরীক্ষা শেষে উপজেলার ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের দুটি শেল নিক্ষেপ করে। হামলায় শিক্ষক, কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও পথচারীসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন।

কেন্দ্রসচিব ও ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কেন্দ্রে নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। তার দাবি, প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ায় পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ নকলের সুযোগ দাবি করে। দায়িত্বরত শিক্ষকরা এতে বাধা দিলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে পরীক্ষা শেষে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে কলেজে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বিষয়টি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রসচিব জানান, শনিবার কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৯০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষা চলাকালে কয়েকজন পরীক্ষার্থী বহুনির্বাচনী ও লিখিত অংশের প্রশ্ন কঠিন হওয়ার অভিযোগ তোলেন। পরে তারা নকলের সুযোগ দাবি করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। এতে কিছু পরীক্ষার্থী শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা শেষে কলেজের সামনে একদল শিক্ষার্থী জড়ো হয়। পরে আরও লোকজন সেখানে এসে যোগ দেয়। দুপুর দেড়টার দিকে কয়েক শ শিক্ষার্থী কলেজে প্রবেশের চেষ্টা করে। সামনের ফটকে বাধা পেয়ে তারা পেছনের ফটক ভেঙে লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এ সময় প্রশাসনিক ভবন, অধ্যক্ষের কক্ষ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং কয়েকটি শ্রেণিকক্ষের জানালার কাচ, আসবাবপত্র ও দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র (এসি) ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে উত্তরপত্র নেওয়ারও চেষ্টা করলেও শিক্ষকরা তা প্রতিহত করেন।

হামলায় কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিকদার হুমায়ুন কবির, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমান, স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী ও পথচারীসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

চরফ্যাশন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান বলেন, উত্তেজিত শিক্ষার্থী ও উপস্থিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের দুটি শেল নিক্ষেপ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা পরীক্ষার শুরু থেকেই পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করছিলেন। তাদের দাবি, সময় জানতে চাইলেও খাতা কিছু সময়ের জন্য আটকে রাখা হতো, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ক্ষোভের জেরেই পরীক্ষা শেষে কয়েকজন শিক্ষার্থী কলেজের জানালার গ্রিল ও কাচে ইট নিক্ষেপ করে।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, প্রশ্ন কঠিন হওয়াকে কেন্দ্র করে কিছু শিক্ষার্থী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত