বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে জেলের ছদ্মবেশে থাকা এক সাংবাদিকের নিকট থেকে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মো. কবির।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, চরদুয়ানী ইউনিয়নের বাড়ানি খাল দিয়ে চলাচলকারী মাছ ধরার ট্রলার, স্টিল বডি ট্রলার ও অন্যান্য নৌযান থেকে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে জনৈক এক সাংবাদিক জেলের ছদ্মবেশে অনুসন্ধান চালান।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে মুঠোফোনে এএসআই কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিকাশে টাকা পাঠাতে বলেন। পরে পাঠানো অর্থ কম হয়েছে উল্লেখ করে বাকি টাকা নিয়ে সরাসরি নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে যেতে বলেন।
পরদিন ছদ্মবেশী সাংবাদিক চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে গেলে এএসআই কবির তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তিনি নগদ টাকা গ্রহণ করে নিজ হাতে গুণে নেন। পুরো ঘটনাটি গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।
ভিডিওতে চাঁদা হিসেবে আদায় করা অর্থের ভাগ-বণ্টন সম্পর্কেও আলোচনা শোনা যায়। সেখানে এএসআই কবিরকে বলতে শোনা যায়, আদায় করা অর্থের একটি অংশ ঊর্ধ্বতন পর্যায়েও পাঠাতে হয়।
জনৈক ওই সাংবাদিক অভিযোগ করেন, অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও দেখানোর পর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এক সদস্য তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ভিডিও মুছে ফেলার চেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, ‘জেলেরা দীর্ঘদিন ধরে নৌ পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে আসছিলেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই আমি জেলের ছদ্মবেশে অনুসন্ধান চালাই। এএসআই কবির প্রথমে বিকাশে টাকা নিতে বলেন, পরে বাকি টাকা নিয়ে ফাঁড়িতে যেতে বলেন। টাকা না দিলে ট্রলার চলাচলে বাধা দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চরদুয়ানী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গজনবী মিয়া বলেন, ‘এ ধরনের কোনো চাঁদা আদায়ের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত এএসআই মো. কবির বলেন, ‘আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানি না।’
বরগুনা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘জেলেদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ নতুন নয়। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন, ‘জেলেদের হয়রানির অভিযোগ আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।’
এ বিষয়ে বরিশাল নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার এস এম নাজমুল হক বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খানজাহান আলী বিমানবন্দর চালু করতে আগ্রহী চীন
কিশোরগঞ্জে এনসিপির পথসভায় হামলার আশংকা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যাত্রীবাহী বাস খাদে, আহত ১২
সাতক্ষীরায় হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী