জামালপুরে মিমি হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি পিবিআইর

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

জামালপুর শহরের পশ্চিম নয়াপাড়া এলাকায় ভবনের পঞ্চম তলা থেকে ইশরাত জাহান মিমির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেপ্তার আসামি কাউসার আহমেদ খানের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানিয়েছে, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও অর্থ দাবিকে কেন্দ্র করে মিমিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জামালপুর শহরের জিয়া কলেজ মোড় এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার কাউসার আহমেদ খান (৩৬) জামালপুর পৌর শহরের বাগেরহাটা এলাকার মৃত রফিক খানের ছেলে।

পিবিআই জানায়, গত ২৩ আগস্ট সকালে পশ্চিম নয়াপাড়া রেলগেটসংলগ্ন বাবুল মিয়া বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলার পূর্ব পাশের একটি কক্ষ থেকে মিমির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পিবিআই জামালপুরের ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।

এ ঘটনায় মিমির মা মুক্তা বেগম বাদী হয়ে কাউসার আহমেদ খানসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনের বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই জামালপুর গ্রহণ করে।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার বাগেরহাটা এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কাউসারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআইয়ের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে কাউসার জানিয়েছেন, প্রায় তিন বছর আগে তাঁর রাফি স্টোরে কেনাকাটার সূত্রে মিমির সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে বকেয়া টাকা পরিশোধের কথা বলে মিমি তাকে বাসায় ডাকেন। সেখানে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় এবং সেই সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন কাউসার।

পিবিআই জানায়, ওই ভিডিও দেখিয়ে কাউসারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় অর্থ নেওয়া হতো বলে তিনি দাবি করেছেন। একপর্যায়ে নিজের সঞ্চিত অর্থের পাশাপাশি জমি এবং মা ও স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির অর্থও মিমির পেছনে ব্যয় করেন বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

কাউসারের দাবি, মিমি তাকে মাদক সেবনে আসক্ত করার চেষ্টা করতেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলার জন্য চাপ দিতেন। এসব বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন ২২ আগস্ট মিমি কাউসারকে তাঁর ভাড়া বাসায় ডেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিমি কাউসারের স্ত্রীকে ফোন করে তাঁদের সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেন এবং কাউসার তাঁর সঙ্গে আছেন বলে জানান।

স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলানোর বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে কাউসার মিমির গলা চেপে ধরলে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে। এরপর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান কাউসার।

পিবিআই আরও জানায়, গ্রেপ্তারের পর কাউসার হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত ও আসামির জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত নিরপেক্ষ ও আইনানুগভাবে সম্পন্ন করে দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

MCH
আরও পড়ুন