বেড়িবাঁধ ভেঙে ২ উপজেলা প্লাবিত, সুপেয় পানির তীব্র সংকট

আপডেট : ০১ জুন ২০২৪, ০৭:৪৭ পিএম

পিরোজপুরে ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে ইন্দুরকানী ও মঠবাড়িয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে জোয়ারের পানির চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজার-হাজার মানুষ। পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, পুকুর, মাছের ঘের ও ফসলি জমি। জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার টগড়া ও মঠবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালের জোয়ারের পানির চাপে গত রোববার বিকেলে থেকে দুই উপজেলার পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মানুষের ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েছে পানি। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব গ্রামের বাসিন্দারা।

চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মঞ্জু জানান, প্লাবিত এলাকায় চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। ঘর থেকে বাইরে যেতে পারছেন না কেউ। দিনমজুরেরা কাজে যেতে পারছেন না। অধিকাংশ পরিবারের রান্নাঘরের চুলা জ্বালাতে পারছেন না। ফলে সেখানে খাদ্য ও পানযোগ্য পানির সংকট দেখা দিয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘূর্ণিঝড় রিমালের দুই-তিন দিন পর এখানে মেম্বার, চেয়ারম্যান ও ইউএনও এসেছিলেন। কিন্তু আমাদের অবস্থা অনেক খারাপ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলে বোঝানো যাবে না। ঘরে রান্না করতে পারি না। চালচুলা কিছু নাই। রাস্তায় রান্না করে খাই। আমাদের খাবারও সংকট কেউ দেখার নাই।

এ ব্যাপারে ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু বকর সিদ্দিকী জানান, রিমালের কারণে বেড়িবাঁধ ভেঙে গত রোববার থেকে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছি যত দ্রুত সম্ভব সেখানে মেরামত করা হবে এবং খাবার পৌছেয়েছি।

পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী নুসাইর হোসেন জানান, পিরোজপুরে ইন্দুরকানী যে বেড়িবাঁধ ভেঙেছে সেটা দ্রুত মেরামত করা হবে। মঠবাড়িয়া বিভিন্ন জায়গায় আমাদের বেড়িবাঁধ আংশিক নষ্ট হলে সেখানে মেরামত করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রায় ৩০ ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব স্থলভাগে যে জলোচ্ছ্বাস হয়েছে তাতে জেলা শহর পিরোজপুরসহ উপজেলা শহরগুলো প্লাবিত হওয়ায় বাসিন্দারা সুপেয় পানির তীব্র সংকটে পড়েছে।

পিরোজপুর পৌরসভার পানি সরবরাহ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মচারী রইস উদ্দিন জানান, এই সমস্যা জানিয়ে শত শত পৌরবাসী তাদের সাহায্য চেয়ে মোবাইল ফোনে এবং সরাসরি পৌর ভবনে এসে ধর্ণা দিচ্ছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে তারা তেমন কোনো সেবা দিতে পারছেন না। এ দিকে মঠবাড়িয়া, ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী, ইন্দুরকানী, নেছারাবাদসহ উপজেলা শহরসমূহ থেকেও এরকম বিপদের খবর পাওয়া যাচ্ছে। উপজেলা শহরসহ অন্যান্য এলাকার অবস্থাও অনুরূপ।

এসব শহরের দুই একটিতে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা থাকলেও ভূ-গর্ভস্থ ট্যাংক ময়লা পানিতে নিমজ্জিত থাকায় তার ব্যবহার দুরূহ হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও গভীর নলকূপ দিয়ে পানি উঠানো গেলেও তা সংরক্ষণের সময় দূষিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চল ও হাট-বাজারে সুপেয় পানির সংকট তীব্র। খাবার পানির উৎস পুকুর প্লাবিত হয়ে লোনা ও দূষিত পানিতে ভরে থাকায় গ্রামের মানুষের সুপেয় পানির সংকট প্রবল। গভীর ও অগভীর নলকূপ দিয়ে কোথাও কোথাও এ সংকট মোকাবিলা করার চেষ্টা চললেও জেলার অধিকাংশ দুর্গত এলাকার মানুষ বিপাকের মধ্যে রয়েছে।

এদিকে জেলা সদর ও ৭টি উপজেলা সদরে বিদ্যুৎ পৌঁছালেও বেশির ভাগ গ্রামে নেই বিদ্যুৎ।

জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেলা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের বিদ্যুৎ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে যাওয়াসহ বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ ভেঙে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। লাইন মেরামত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই জেলার ৭টি উপজেলায় বিদ্যুৎ কিছু এলাকায় এখনো সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আমরা কাজ করে যাচ্ছি দ্রুত সংযোগ দেওয়া হবে।

MHR/AST
আরও পড়ুন