পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মধ্যে একটি বিকল হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলে অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে । ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। পুরো অঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ থাকছে না। গত সোমবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে এমন অবস্থা চলছে। অবস্থা ঠিক হতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন গ্রাহকেরা। বিশেষ করে গভীর রাতে বিদ্যুৎ গেলে ঘুমানো যাচ্ছে না। দিনের বেলা সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও বিসিক শিল্পনগরে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
নগরীর আলেকান্দা এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোস্তফা সরদার বলেন, কয়েকদিন ধরে দিনে রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে যেমন ব্যবসায়ে প্রভাব পড়ছে, জনজীবনেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
আরেক ব্যবসায়ী হালিম খান জানান, তার ইলেকট্রনিক্সের ব্যবসা। এ ব্যবসা বিদ্যুৎ ছাড়া অচল। কয়েকদিন ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে লোকসানের পাশাপাশি ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাকে।
নগরীর পশ্চিম কাউনিয়ার গৃহিণী দোলা জান্নাত বলেন, দিনটা কোনো রকম পার হলেও বেশি কষ্ট হচ্ছে রাতের বেলায়। গভীর রাতে বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে কষ্ট পায় শিশুরা। এমন অবস্থায় নিজেরা না ঘুমিয়ে বাচ্চাদের বাতাস করে রাত পার করতে হয়।
এ ব্যাপারে বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দীপক মিস্ত্রী জানান, তাঁদের আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা ৮২ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ পাচ্ছেন ৫৬ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-২ এর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, যেকোনো সময় বিদ্যুৎকেন্দ্র অকেজো হয়ে সরবরাহ বন্ধ হতে পারে। বিদ্যুতের ঘাটতি যেকোনো সময় আসতেই পারে। তবে এ অবস্থা শীঘ্রই কেটে যাবে।
বরিশাল গ্রিড স্টেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ জানান, পায়রার দুটি ইউনিটের একটি অকেজো হয়ে বন্ধ রয়েছে। ওই দুই ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট করে মোট ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হতো। এ বিদ্যুৎ বরিশাল, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জসহ কিছু কিছু জায়গায় সরবরাহ করা হয়। কিন্তু একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। গ্রিডের আওতায় বরিশালে প্রায় ৫৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট সরবরাহ করা যাচ্ছে।
আগামী ৩-৪ জুলাই বিকল হওয়া ইউনিটটি সচল হতে পারে বলে জানান তিনি।
একই অবস্থা বিরাজ করছে জেলার উপজেলা শহরগুলোতে। উপজেলায় দিনরাতে ৮-১০ বারের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। ফলে এসব এলাকায় আরও ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলাগুলোতে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
