ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে ঝড়ে উপড়ে পড়া আলোচিত কড়ই গাছটি অবশেষে কেটে ফেলেছে উপজেলা প্রশাসন।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি অপসারণ করা হয়।
জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে ঝড়ে গাছটি শেকড়সহ উপড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে গাছের মালিক সেটি বিক্রি করে দেন। ক্রেতা গাছটির ডালপালা ও কিছু অংশ কেটে ফেললেও মালিকের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যান। ফলে গাছের গোড়ার চারপাশ প্রায় ৮০ শতাংশ কাটা অবস্থায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট দীর্ঘ একটি অংশ মাটিতে পড়ে ছিল।
এর মধ্যে সপ্তাহখানেক আগে স্থানীয় লোকজন দেখতে পান, মাটিতে পড়ে থাকা গাছের অংশটি আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করে। খবর ছড়িয়ে পড়লে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ গাছটি দেখতে আসতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিডিও ও সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
একপর্যায়ে কিছু মানুষ ঘটনাটিকে অলৌকিক বলে প্রচার করতে শুরু করে। গাছের গুঁড়িতে লাল কাপড় বেঁধে দেওয়া হয়। কেউ কেউ সেখানে মোমবাতি জ্বালান এবং টাকা-পয়সাও দিতে থাকেন। এতে গাছটিকে ঘিরে মানুষের সমাগম ক্রমেই বাড়তে থাকে।
বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে জননিরাপত্তা ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনার আশঙ্কায় গাছটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুক্রবার সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কফিল উদ্দিন মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছটি কেটে ফেলেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘গাছটিকে কেন্দ্র করে বিপুল মানুষের সমাগম হচ্ছিল, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছিল। এ ছাড়া কাটা গাছ দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাকে অপব্যাখ্যা করে কেউ যেন ফায়দা লুটতে না পারে, সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গাছের মালিকের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় গাছটি কেটে ফেলা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গাছের মালিক সৌদি আরবপ্রবাসী নুরুল আমিন ভিডিও কলে গাছটি কাটার সম্মতি দিয়েছেন এবং গাছ বিক্রির অর্থ স্থানীয় মসজিদে দেওয়ার কথা বলেছেন। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’