হ্রদ, পাহাড় ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা পার্বত্য জেলা রাঙামাটিকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও যানজটমুক্ত পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছেন রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম। তাঁর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, থানা ও ফাঁড়ির সদস্যদের সমন্বয়ে শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত এলাকা বনরূপাকেন্দ্রিক বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যানজট নিরসন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ সুপার বনরূপা এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সড়কের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, ট্রাফিক বিভাগ, থানা ও ফাঁড়ির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে যানজট নিরসনে আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
এসময় রাঙামাটি জেলা পুলিশের এডিশনাল এসপি (সদর সার্কেল) তারেক সেকান্দার, কোতয়ালী থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন, ট্রাফিক বিভাগের টিআই সাইফুর রহমান, ট্রাফিক সার্জেন্ট বিশ্বজিৎসহ পুলিশের উদ্বর্তন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম বলেন, রাঙামাটি একটি পর্যটন নির্ভর জেলা। পর্যটকদের কাছে জেলার ইতিবাচক ভাবমূর্তি ধরে রাখতে হলে শহরের সড়ক ব্যবস্থাপনাকে অবশ্যই নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও যানজটমুক্ত রাখতে হবে। তাই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন জেলা পুলিশের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, বনরূপা এলাকায় কোনোভাবেই অপ্রয়োজনীয় যানজট সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না। যাত্রীরা সেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা অন্যান্য যানবাহন থেকে নামতে পারবেন, তবে খালি কোনো যানবাহন সেখানে অবস্থান করতে পারবে না। যাত্রী নামানোর পরই যানবাহনকে নির্ধারিত স্থানে চলে যেতে হবে এবং সেখান থেকেই পুনরায় যাত্রী পরিবহন করতে হবে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, কর্মদিবস, বাজারের ব্যস্ত সময় এবং পর্যটকদের অধিক সমাগমের দিনগুলোতে অতিরিক্ত ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন করে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি চালক, ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, পুলিশ একা স্থায়ীভাবে যানজট নিরসন করতে পারবে না। ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সবার সম্মিলিত সচেতনতাই একটি শৃঙ্খলাপূর্ণ শহর গড়ার প্রধান শর্ত।
এদিকে রাঙামাটি ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মুহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেন, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে রাঙামাটি শহর মূলত একটি প্রধান সড়ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। শহরের প্রাণকেন্দ্র বনরূপায় প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম হয়। রিকশা বা টাউন সার্ভিস না থাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাই এখানকার প্রধান গণপরিবহন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই যানবাহনের চাপ বেশি থাকে।
তিনি বলেন, ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত অভিযান, অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, আইন প্রয়োগ এবং চালকদের সচেতন করার মাধ্যমে যানজট কমানোর চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সমাধানের জন্য চালক, যাত্রী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ব্যস্ত এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও কার্যকর করা হবে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে অতিরিক্ত নজরদারি, ট্রাফিক সদস্য মোতায়েন এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে।
কাপ্তাই হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু, রাজবন বিহার, শুভলং ঝরনাসহ রাঙামাটির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে প্রতিবছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে বনরূপা এলাকায় যানজট পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে উঠলেও পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তদারকিতে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে চলমান এই সমন্বিত কার্যক্রম এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় রাঙামাটি খুব শিগগিরই আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও যানজটমুক্ত পর্যটন নগরী হিসেবে নতুন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে যেমন স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমবে, তেমনি দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের কাছেও রাঙামাটির ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
কোটচাঁদপুরে চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪