কুমিল্লায় আচারের টক-ঝাল নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, আহত ২০

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৩ এএম

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে আচার খাওয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির জেরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতীমারা এবং নাঙ্গলকোট উপজেলার পুজকরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। দিনভর কয়েক দফায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাথেরপেটুয়া রেলস্টেশন বাজারে হাতীমারা গ্রামের এক নারী আচার কিনতে গেলে পুজকরা গ্রামের এক আচার বিক্রেতা তাকে টক-ঝাল আচার খাবেন কি না জানতে চান। এ নিয়ে ওই নারীর স্বামীর সঙ্গে আচার বিক্রেতার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই নারীটির স্বামী আচার বিক্রেতাকে মারধর করেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এরপর দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে। সংঘর্ষের মধ্যে কয়েকটি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাঙ্গলকোট অংশে একটি মেইল প্যাক্টরি ও তিনটি দোকান এবং হাতীমারা গ্রামের দুটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। সংঘর্ষে হাতীমারা গ্রামের পারভেজ এবং পুজকরা গ্রামের রাকীবসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেন।

সংঘর্ষের একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে একটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়। অবরোধের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

খবর পেয়ে বিকেলে লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম সার্কেলের পুলিশ, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট থানার সদস্য এবং কুমিল্লা পুলিশ লাইনের অতিরিক্ত সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ দুই পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনূর ইসলাম বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মনোহরগঞ্জ থানা, লাকসাম ও চৌদ্দগ্রাম সার্কেল এবং কুমিল্লা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এমইউ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত