প্রেমের টানে টাঙ্গাইলে চীনের স্কুলশিক্ষক

আপডেট : ৩১ মে ২০২৬, ১১:০৮ পিএম

প্রেমের কোনো ভৌগোলিক সীমানা বা ভাষার প্রাচীর নেই, এই চিরায়ত সত্যকে যেন আবারও বাস্তব করে তুলেছেন চীনা নাগরিক ওয়াং ইউলাই (৩২)। সুদূর চীনের রাঙ্গগুই প্রদেশ থেকে ভালোবাসার টানে তিনি ছুটে এসেছেন বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলায়। দীর্ঘদিনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে পরিণয়ের পথে নিতে তার একমাত্র লক্ষ্য, স্থানীয় তরুণী আনিকা আক্তারকে (২০) ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ে করা এবং একসঙ্গে নতুন জীবনের সূচনা করা।

শনিবার (৩০ মে) মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা পূর্বপাড়ায় আনিকার বাড়িতে পৌঁছান ওয়াং ইউলাই, যিনি পেশাগতভাবে চীনের একটি স্কুলের শিক্ষক। প্রত্যন্ত গ্রামে একজন চীনা নাগরিকের আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক কৌতূহল। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক জনতা ভিড় করেন আনিকাদের বাড়িতে, বিদেশি এই আগন্তুককে একনজর দেখার জন্য।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপের মাধ্যমে ওয়াং ইউলাই এবং আনিকা আক্তারের পরিচয় হয়। প্রথমে সাধারণ বন্ধুত্ব থেকে শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা গভীর প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। দীর্ঘ সাত মাস অনলাইনে যোগাযোগের পর বাস্তবে দেখা ও সম্পর্ককে পরিণয়ের দিকে নিতে এক মাসের ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে আসেন এই চীনা তরুণ।

ওয়াং ইউলাই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমি আনিকাকে মনে-প্রাণে ভালোবাসি। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও নিয়ম মেনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করতে চাই এবং সুখী জীবন গড়তে চাই। এখানে এসে আনিকার পরিবারের কাছ থেকে যে আন্তরিকতা পেয়েছি তা সত্যিই অসাধারণ। তিনি আরও বলেন, অনলাইনে প্রতারণা ও মানবপাচারের মতো ঘটনার কথা তিনি জানেন, তবে তিনি বৈধ ও আইনি প্রক্রিয়াতেই সবকিছু সম্পন্ন করতে চান।

অন্যদিকে, নিজের বাড়িতে চীনা প্রেমিককে সরাসরি পেয়ে উচ্ছ্বসিত আনিকা আক্তার বলেন, অনলাইনে পরিচয়ের পর থেকেই আমাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়। আমরা দুজনই একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে যে দিন বাংলাদেশে আসার কথা দিয়েছিল, ঠিক সেই দিনেই এসেছে। সে আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে, তারপর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

আনিকাদের পরিবারও জানান, তারা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন এবং দ্রুতই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। এক মাসের ভিসার মেয়াদ শেষে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক কাগজপত্র ও ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নবদম্পতি চীনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, চীনা নাগরিকের ভিসা ও পাসপোর্টসহ সব নথি বৈধ। তিনি বর্তমানে মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে অবস্থান করছেন এবং আইনগতভাবে কোনো সমস্যা নেই।

স্থানীয় পর্যায়ে এ ঘটনা ঘিরে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে ভালোবাসার আন্তর্জাতিক রূপ আবারও নজর কেড়েছে সাধারণ মানুষের।

AS
আরও পড়ুন