শীতলক্ষ্যার ভাঙনে হুমকিতে কাপাসিয়া থানা, মসজিদ ও মন্দির

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
শীতলক্ষ্যা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানা ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও ধর্মীয় স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং তীব্র ভাঙনের কারণে থানার সীমানা ঘেঁষে প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে নদী শাসন ও প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন জানিয়েছে গাজীপুর জেলা পুলিশ।
 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাপাসিয়া থানা ভবনটি শীতলক্ষ্যা নদীর ডান তীর ঘেঁষে অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে নদীর তীব্র ভাঙনের ফলে থানার বাউন্ডারি ওয়াল, পাকা ঘাট এবং বিভিন্ন স্থাপনার নিচে মাটির ক্ষয় শুরু হয়েছে। কয়েকটি স্থানে গভীর গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় পুরো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
 
গাজীপুরের পুলিশ সুপার কর্তৃক বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো এক পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কাপাসিয়া থানার মূল ভবন, অফিসার্স ব্যারাক, অস্ত্রাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
এদিকে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে শুধু থানা ভবনই নয়, কাপাসিয়া বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, কাপাসিয়া থানা মসজিদ এবং ঐতিহ্যবাহী কাপাসিয়া জয়কালী মন্দিরও হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এসব ধর্মীয় ও জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
 
সম্প্রতি কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এ অবস্থায় শীতলক্ষ্যা নদীর ডান তীর সংরক্ষণে কাপাসিয়া থানার সীমানা সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, ব্লক স্থাপন এবং স্থায়ী নদী শাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ প্রশাসন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষ।
 
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে শীতলক্ষ্যা নদীর ভাঙন দেখা দিলেও এবার পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভয়াবহ। প্রতিদিন নদীর তীরে নতুন নতুন ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন আশপাশের মানুষ।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছির আহমেদ বলেন, শীতলক্ষ্যা নদীর ভাঙন বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে থানা এলাকার সীমানা ঘেঁষে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্তসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছি। দ্রুত প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও নদী শাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে থানার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি সম্পদ এবং আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 
তিনি আরও বলেন, কাপাসিয়া থানা শুধু একটি প্রশাসনিক স্থাপনা নয়, এটি উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। তাই জনস্বার্থে এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
 
MCH/AHA
আরও পড়ুন