গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিংগা ইউনিয়নের সেরার খালের ওপর নির্মিত বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির প্রধান (পটকা-বাউনী বাজার আঞ্চলিক) সড়কের সেতুটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুর বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, নিচের পলেস্তারা খসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং রডে মরিচা ধরে খসে পড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেতুটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনা এড়াতে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে লাল পতাকা টানিয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলেও স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৮ বছর আগে নির্মিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে সেরার খাল পুনঃখননের পর বর্ষার তীব্র স্রোতে সেতুর নিচের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অংশের ইট ও মাটি সরে যায়। সম্প্রতি ক্ষয়ক্ষতি আরও বেড়ে যাওয়ায় সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে পটকা, বাউনী ও হায়াতখারচালা গ্রামের হাজারো মানুষ উপজেলা ও জেলা সদরে যাতায়াত করেন। এছাড়া প্রোস্টার অ্যাপারেলস লিমিটেড ও নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারির বিপুলসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী, হেরা পটকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পটকা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এই সড়ক ব্যবহার করতেন। বর্তমানে সেতুটি দেবে যাওয়ায় স্থানীয়রা নিরাপত্তার স্বার্থে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।
পটকা গ্রামের বাসিন্দা নাঈম বলেন, “সেতুটি অচল হয়ে যাওয়ায় আমাদের সাত কিলোমিটার ঘুরে শ্রীপুর-বাউনী সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে।”
হায়াতখারচালা গ্রামের রহিম উদ্দিন বলেন, “ব্রিজটি অনেকদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন মানুষ আর পারাপার করতে পারছে না। শিক্ষার্থী, শ্রমিক, কৃষকসহ সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।”
স্থানীয় প্রবীণ আব্দুল জব্বার বলেন, “প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর ধরে সেতুটি দেখছি। এখন এর অবস্থা খুবই খারাপ। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
বাউনী গ্রামের নাজিম উদ্দিনের অভিযোগ, বহুবার বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হলেও নতুন সেতু নির্মাণ বা সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থী জুয়েনা আক্তার বলেন, “আগে এই সেতু দিয়েই কলেজে যেতাম। এখন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য খুব কষ্টকর।”
গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরুক আহমেদ বলেন, “সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন দেবে গিয়ে ফাটল দেখা দেওয়ায় যানবাহন ও মানুষের চলাচল বন্ধ রয়েছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী তৌহিদ আহমেদ বলেন, “সেতুর নিচের অংশ দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে লাল পতাকা টানানো হয়েছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমাতে এবং চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘব ও সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত সেতুটি সংস্কার বা নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তিই হচ্ছে গণতন্ত্র : মির্জা ফখরুল
চাকরির প্রলোভনে অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪
আড়াইহাজারে গভীর রাতে ডাকাতদের হামলা, আহত ৬