গর্ভধারিনী মায়ের হাতে দুধ দিয়ে গোসল করে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদলের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ালেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুব দলের সাবেক যুগ্ন সম্পাদক মাহাবুব আলম (৪০)।
প্রতিবাদ হিসেবে দুধ দিয়ে গোসল করে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। দুধ দিয়ে গোসল করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় ধনুয়া দক্ষিনপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ীতে তিনি এ ঘোষনা দেন।
মাহাবুব আলম গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া দক্ষিনপাড়া গ্রামের আজিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি তিনি ২০০৬ সাল থেকে বিএনপি তথা যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। নিজের দুই সন্তান, স্ত্রী, মা এবং বাবার সিদ্ধান্ত মতে ব্যাক্তিগত কারণে দলের সকল প্রকার কার্যক্রম থেকে তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

মাহবুব আলম বলেন, গোসল করে আমার মায়ের উপস্থিতিতে বিএনপি যুবদল তথা রাজনীতি থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমি আর বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হবো না এবং যুক্ত থাকবো না। আজ থেকে আমি অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করব এবং আমার পরিবারকে নিয়ে সুন্দরভাবে চলবো। নিজেকে রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে রাখতে দুধ দিয়ে গোসল করেছি। আজ থেকে আমি শুধু একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে সকলের সাথে মিলে মিশে শান্তিতে বাঁচতে চাই।
রাজনীতি ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মাহাবুব আলম বলেন, আমার পরিবারের সকলের সমর্থনে বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকবো না। ২০০৬ সালে আমি বিএনপিতে আসি। ২০১৩ সালে যুবদলের কমিটিতে ৫নং ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হই। আমি রাজনীতি করে দুর্দিনে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।
শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তায় কিতাব আলী প্লাজায় আমার একটি জুতার দোকান ছিল। সেই দোকান ধরে রাখতে পারিনি রাজনীতি করার কারণে। আজকের পর থেকে কোন ধরনের রাজনীতির সাথে আমি জড়াবো না। বিগত দিনের রাজনৈতিক পাওয়ার বা চলাফেরার মাধ্যমে কারো মনে কোন প্রকার কষ্ট দিয়ে থাকি বা আমার কোন আচরনে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে ভাই, বন্ধু অথবা ছেলে হিসেবে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমি অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো আপনাদের সাথে চলাফেরা করবো। মা, বাবা এবং পরিবারকে নিয়ে সবার সাথে মিলেমিশে সুখে শান্তিতে থাকতে পারি সে কারণে আমি আর রাজনীতিতে সক্রিয় থাকব না।
তিনি আরো বলেন, আপনারা অবগত আছেন গত একটি মামলায় আমি ৫২ দিন জেল খেটেছি। আমার মা, বাবা এবং পরিবারের লোকজন অনেক কষ্ট করে টাকা পয়সা দিয়ে আমাকে জেল থেকে জামিনে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। জেল থেকে বের হওয়ার পর মামলার ঘটনা নিয়ে আমিও একটি সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম যেন ছোট্ট ঘটনাটি উঠে আসে। সেই কারণে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি আমাকে কারণ দর্শানো নোটিশ ইস্যু করে। আমি শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খাইরুল কবির মন্ডল আজাদ ভাইয়ের কাছে সেই কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেই। কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দেওয়ার এক মাস পর আবার আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আমার কোন কার্যক্রমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। এ কারণে হয়তো আমাকে বহিষ্কার করেছে, এতে হয়তো দলের ভালো হয়েছে। তাতে আমার কোন দুঃখ নাই। আমি বিগত দিনে যতদিন বিএনপি'র যুবদলের সাথে রাজনীতি করেছি, ততদিন আমার জানামতে আমি কারো ক্ষতি করি নাই। যদি ক্ষতি করে থাকি বা দলের নাম বিক্রি করে কারো কাছ থেকে কোন ধরনের টাকা পয়সা বা আর্থিক সুবিধা নেইনি। আর যদি মনে করেন এই ছেলেটা ভালো ছিল, এই ছেলে কখনো কোন খারাপ করে নাই, তাহলে আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।
ইজারা ছাড়াই বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে ব্রীজ
চিকিৎসক সংকটে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল
চুয়াডাঙ্গায় সাপের দংশনে শিক্ষার্থীর মৃত্যু