ফরিদপুরে সেনাসদস্য তিতাসের জানাজা সম্পন্ন

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের (২৮) জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

পরে স্থানীয় কবরস্থানে নানির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

এর আগে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে তিতাসের মরদেহ নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি মাঠে আনা হয়। সেখানে পদ্মা সেনানিবাসের ১৫ আর-ই রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের মেজর সোহেলের নেতৃত্বে সেনা সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে মরদেহ নেওয়া হয় তার গ্রামের বাড়ি উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে।

মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা শেষবারের মতো তাকে দেখতে ভিড় করেন। এ সময় তার মা রেখা বেগম, বাবা আফজাল শেখ ও স্ত্রী সুমাইয়া আক্তারসহ স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরে জানাজায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন।
 
আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন হয়নি।

তিতাসের বাবা আফজাল শেখ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। ছোট ভাই আকরাম হোসেনও বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিতাস ছিলেন সবার বড়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে তিতাসের বুকের বাঁ পাশের ওপরের অংশে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিতাস সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য ছিলেন। তিনি টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। ২০১৭ সালে সৈনিক পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার বিকেলে হেলিকপ্টারে করে তিতাসের মরদেহ নগরকান্দায় আনা হয়। পরে লস্করদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় কবরস্থানে নানির কবরের পাশে তাকে দাফনের প্রস্তুতি চলছে।

এএইচএ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত