শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে ইমামের ৭ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

মক্তবে ১০ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের দায়ে মসজিদের ইমাম মাওলানা আরিফুল ইসলামকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন।

দণ্ডিত আরিফুল ইসলাম (২৪) ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের দয়ারামপুর এলাকার একটি মসজিদের খণ্ডকালীন ইমাম ও মক্তবের শিক্ষক ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন তিনি। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় হাবেলী দয়ারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি আরিফুল ইসলাম শিশুদের আরবি পড়াতেন। ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর সকালে প্রতিদিনের মতো আরবি পড়তে মক্তবে যায় শিশুটি। সেদিন মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় অন্য কোনো শিক্ষার্থী মক্তবে আসেনি।

এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুটিকে একা পেয়ে নিজের কক্ষে ডেকে নেন আরিফুল। প্রথমে শরীরের বিভিন্ন অংশ টিপে দিতে বলেন। পরে অশালীন প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে ভয়ভীতি দেখিয়ে পোশাক খুলতে বলেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেন।

এ সময় পানি পান করার কথা বলে কৌশলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে বাড়িতে চলে যায় শিশুটি। পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায় সে। পরে পরিবারের লোকজন স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত ইমামকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। ওই দিনই শিশুটির মা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম আরিফুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ড দিয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

এএইচএ
আরও পড়ুন