নার্সারিতে ফুল চাষে সফল ভৈরবের দুলাল

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে একসাথে তিনটি দিবস পাওয়া যায়। যার ফলে বাড়তি ফুলের চাহিদা পূরণের জন্য আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখি। আমাদের নার্সারি থেকে প্রতিদিন ১১-১২শত গোলাপ ফুল কাটা হয়।  

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৪:৪৬ পিএম

৩৭ বছর যাবত নার্সারিতে বাহারি ফুলের চাষ করে সফল হয়েছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের দুলাল মিয়া। তিনি উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। 

উপজেলার গোছামারা পশ্চিমপাড়া এলাকায় মো. দুলাল মিয়ার নার্সারিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নার্সারি জুড়ে ফুটেছে গোলাপ, গাদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। বাগানে মালিকসহ পরিচর্যাকারীরা ফুল গাছের পরিচর্যা ও বিক্রির জন্য গাছ থেকে গোলাপ ও গাদা ফুল কাটছেন। বাহারি রঙের ফুলের সমারোহ পুরো নার্সারি। এমন মনোরম দৃশ্য দেখে যেন দু-চোখ ভরে যায়। এমন সময় কিছু তরুণ-তরুণী ও দর্শনার্থীদের বাগানে সেলফি তুলতে দেখা যায়।

নিজ গ্রাম গোছামারায় নিজস্ব ১২০ শতাংশ জায়গায় গোলাপ, সাদা গোলাপ, গাদা, রজনীগন্ধা বিভিন্ন প্রজাতির ফুল আবাদ করেন। তার নার্সারি থেকে ফুল সংগ্রহ করে নিজস্ব দুটি দোকানে ক্রেতাদের কাছে পাইকারী ও খুচরা বিক্রি করেন। নার্সারিতে ১৬-২০ জনের বেশি লোকের ফুল চাষ ও বিপণন কাজে কর্মসংস্থান হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় ফুল চাষি দুলাল মিয়ার সাথে। তিনি জানান, শখ থেকে শুরু করেন ফুল চাষ। প্রথম দিকে সাভারে একটি নার্সারিতে ফুল চাষের যাত্রা শুরু করেন তিনি। সেখানে ৮ বছর ফুল চাষের পর নিজ জন্মস্থান ভৈরব শহরের মাদ্রাসা এলাকায় এসে বাণিজিকভাবে বাহারি রঙের গোলাপ, গাদা, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল চাষ শুরু করেন তিনি। 

পরবর্তীতে নিজ গ্রামে নিজস্ব জমিতে আবাদ শুরু করেন গোলাপসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুল। দীর্ঘ ৩৭ বছর যাবত ফুল চাষ করে জীবনে সফল হয়েছেন তিনি। ফুল চাষ করে গড়ে তুলেছেন দুটি ফুল বিক্রির দোকান। এছাড়া ফিরে এসেছে সচ্ছলতা। 

তিনি আরও জানান, আমার তো নার্সারিসহ দুটি ফুল বিক্রির দোকান রয়েছে। সেজন্যই সারা বছরই বিক্রি হয়ে থাকে। যারা শুধু বাগান করে থাকেন তারা দিবসের অপেক্ষায় থাকেন। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে তিনটি দিবস পাওয়া যায়। বিশেষ করে দিবসগুলিতে ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। এসব দিবসে এক সাথে ফুল বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা পাওয়া যায়। যার কারণে আমরাও তিনটি দিবসের অপেক্ষায় থাকি। এবছর ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে আমার বাগান থেকে প্রায় ১৪শত লাল গোলাপ ও ১ হাজার গাদা ফুল কাটা হয়েছে। এসব ফুল দোকানে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতি মাসে আমার নাসার্রিতে প্রায় ৩৫-৪০ হাজার টাকা আয় হয়।

তিনি আরও বলেন, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফুল বাগান সবাই করতে পারে না। মানুষের মনের সাথে ফুল চাষের একটি সম্পর্ক রয়েছে। আমি সবকিছু যাচাই বাছাই করেই ফুল চাষে আগ্রহী হয়েছি। এটা পেশা হিসাবে নিয়ে জীবনে বেশ সফল হয়েছি। তাছাড়া সমাজেও এই পেশাটিকে মানুষ সম্মান দেয়। এই বিষয়টি আমি খুব গর্ববোধ করি। 

নার্সারিতে পরিচর্যাকারী হিসেবে কাজ করেন জাকির হোসেন। তিনি বলেন, প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই নার্সারিতে ফুল গাছে যত্ন ও পরিচর্যা শেষে গাছ থেকে ফুল সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য আমাদের দোকানে নিয়ে যায়। সারাবছরই আমাদের নার্সারির ফুলের চাহিদা থাকে। তবে বিশেষ দিবসগুলিতে একটু বেশি চাহিদা থাকে। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে একসাথে তিনটি দিবস পাওয়া যায়। যার ফলে বাড়তি ফুলের চাহিদা পূরণের জন্য আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখি। আমাদের নার্সারি থেকে প্রতিদিন ১১-১২শত গোলাপ ফুল কাটা হয়।  

নার্সারির আরেক পরিচর্যাকারী রাজু মিয়া বলেন, ৪ মাস হয়েছে আমি বাগানের পরিচর্যাকারী হিসেবে কাজ করছি। প্রতিদিন সকাল থেকে বাগানের ফুল গাছের পরিচর্যা শুরু করি। ফুল গাছে মানুষের মতই পরিচর্যা করতে হয়। যদি কোন কারণে পরিচর্যায় ত্রুটি থাকে তাহলে গাছে ফুল কম আসে। সেজন্যই সঠিক মত যত্ন নিতে হয়। 

AHA
আরও পড়ুন